ডেস্ক :
কোপা আমেরিকায় পাওয়া সাফল্যের পর টোকিও অলিম্পিকেও স্বর্ণের প্রত্যাশা আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবল দলের। কিন্তু সেই যাত্রায় শুরুটা মোটেও ভালো হলো না আলবিসেলেস্তেদের। সাপোরোর সাপোরো ডোমে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২-০ গোলে হেরে গেছে নেহুয়েন পেরেজের দল। ম্যাচের ১৪ মিনিটের সময় অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রথম গোল করেছেন লাচলান ওয়েলস। পরে দ্বিতীয়ার্ধে ৮০ মিনিটের সময় দ্বিতীয় গোল করেন মারকো তিলিও।

অথচ ম্যাচের প্রথমার্ধে প্রায় সব পরিসংখ্যানেই এগিয়ে ছিল আর্জেন্টাইনরা। প্রথম ৪৫ মিনিটে ৬২ শতাংশ সময় বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণেই রেখেছিল তারা। এমনকি গোলের জন্য করেছে ৯টি শটও। কিন্তু কোনোটিই লক্ষ্য বরাবর রাখতে পারেনি। পরে দ্বিতীয়ার্ধে বল দখলের লড়াইয়ে উন্নতি ঘটে অস্ট্রেলিয়ার। তবে আক্রমণে পরিপক্কতা দেখায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের দ্বিতীয় ৪৫ মিনিটে ছয়টি শট করে তারা, যার মধ্যে চারটিই ছিল লক্ষ্য বরাবর। কিন্তু একটিতেও জালের ঠিকানা খুঁজে পায়নি আর্জেন্টাইনরা। ম্যাচের ১৪ মিনিটের সময় মিচেল ডিউকের এসিস্ট থেকে ডি-বক্সের বাম পাশ থেকে বাম পায়ের শটে ডান দিক দিয়ে বল জালে জড়ান ওয়েলস। যার সুবাদে লিড পেয়ে যায় সকারুরা।বিরতিতে যাওয়ার আগে বাকি সময় ঘুরে দাঁড়ানোর বেশ কিছু চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু তা সফল হয়নি। উল্টো অতিরিক্ত যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় আর্জেন্টিনার ফ্রান্সিসকো ওরতেগাকে। এক মিনিটের ব্যবধানে দুই হলুদ কার্ড দেখেছেন ওরতেগা। প্রথমে অতিরিক্ত যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে বাজে ফাউলের কারণে হলুদ কার্ড দেখেন।
পরের মিনিটে ডি-বক্সের মধ্যে রিলে ম্যাকগ্রির সঙ্গে তর্কে জড়ান ওরতেগা। যে কারণে দুজনকেই হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। কিন্তু ওরতেগার এটি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড হওয়ায় মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাকে। যার ফলে দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় আর্জেন্টিনাকে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কার্লোস ভ্যালেনজুয়েলাকে উঠিয়ে এজেকুয়েল পনসেকে নামায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু একজন কম থাকায় প্রায় পুরোটা সময়েই ভুগতে হয় তাদের। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম মিনিটেই বার পোস্টে লাগে অস্ট্রেলিয়ার মিচেল ডিউকের শট। পিছিয়ে থাকায় গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। একটু পরপরই তারা চেষ্টা করে অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণে হানা দেয়ার। তাদেরকে থামানোর জন্য একের পর এক ফাউল করতে হয় অস্ট্রেলিয়াকে। পুরো ম্যাচে ৭টি হলুদ কার্ড দেখেছেন অসি ফুটবলাররা। তবে কাজের কাজ দুইটি গোলও করেছে অস্ট্রেলিয়াই। ম্যাচের ৮০ মিনিটের সময় ডিউকের পাস থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেয়া বাম পায়ের শটে আর্জেন্টিনার পরাজয় নিশ্চিত করেন মারকো তিলিও।
অস্ট্রেলিয়ার কাছে প্রথম ম্যাচ হারের পর আর্জেন্টিনাকে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে স্পেনের বিপক্ষে। ‘সি’ গ্রুপে তাদের অন্যতম প্রতিপক্ষ হচ্ছে স্পেন। বাকি প্রতিপক্ষ হচ্ছে মিসর।