নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাইয়ে নাগর নদীতে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ফজর আলী (৫৫) নামে এক ব্যক্তি মারা গেছে। শনিবার ভোরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ফজর আলী উপজেলার বিশা ইউনিয়নের সাধনগর গ্রামের মৃত লছির উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে। এরআগে গত ৪ ফেব্রæয়ারী বিকেলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাধনগর গ্রামে ‘সাধনগর মৎসজীবি সমবায় সমিতির’ আওতায় প্রায় ১৬০ টি মৎস্যজীবি পরিবার রয়েছে। এ গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে নাগর নদী। সেখানে মাছ শিকার করে মৎস্যজীবিরা জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। মৎস্যজীবিদের প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি ওই নদীটি দখলে নেয়ার জন্য দীর্ঘদিন থেকে পায়তারা করে আসছিল। ইতিপূর্বে এ নিয়ে কয়েকবার দ্ব›দ্ব হয়েছে। গত কয়েকদিন আগে নাগর নদীতে ওই সমবায় সমিতির পক্ষ থেকে মাছ শিকারের জন্য সবাইকে অবগত করা হয়।
গত ৪ ফেব্রæয়ারী নদীতে সবাই মাছ ধরা শুরু করলে প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি তাদের বাঁধা দেয়। এনে নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ফজর আলীকে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুত্বর জখম করা হয়। ঘটনায় চারজন আহত হয়। ফজর আলীকে গুরুত্বর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ দিন পর শনিবার ভোরে তিনি মারা যান।

মৎসজীবি সমবায় সমিতির’ সদস্য আব্দুল্লাহেল আল মামুন বলেন, এ সমিতির প্রভাবশালী আব্বাস আলী ও জান্নাত সহ কয়েক নদীতে মাছ ধরতে বিভিন্ন সময় আমাদের নিশেধ করত বলে তিনি অভিযোগ করেন। ঘটনার দিন আমরা নদীতে মাছ ধরতে গেলে প্রভাবশালীরা বহিরাগত কিছু লোকজন নিয়ে এসে আমাদের উপর হামলা করে। এতে ফজর আলীকে গুরুত্বর হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এব্যাপারে আব্বাস আলী ও জান্নাতের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসলেম উদ্দিন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কয়েকদিন আগে নিহতের স্ত্রী বিবিজান বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেছেন। লাশ উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে।