ডেস্ক : গত ৩ জানুয়ারি রাতে ইরানি বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ডের অভিজাত বাহিনী কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাশেম সোলায়মানিকে হত্যা করতে সফল হয় মার্কিন বাহিনী। তবে ওই রাতে ইয়েমেনে দায়িত্ব পালন করা ইরানের আরেক শীর্ষ জেনারেলকে হত্যার চেষ্টায় ব্যর্থ হয় যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন বাহিনীর এ পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকা দুইটি সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এমন খবর প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি পরিকল্পনা সফল হলেও অন্যটি কী কারণে ব্যর্থ হলো, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি ওই সূত্র দুটি।

অপর মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়, ৩ জানুয়ারি রাতে কাশেম সোলায়মানিকে হত্যা ছাড়া বড় ধরনের আর কোনো অপারেশন চালানো হয়নি। তবে তারা ইয়েমেনে অপারেশ পরিচালনার কথা সরাসরি নাকচও করেননি।

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের মুখপাত্র রেবেকা রেবারিখ এক বিবৃতিতে জানান, তিনি গত ২ জানুয়ারি ইয়েমেনে মার্কিন বিমান হামলার একটি প্রতিবেদন দেখেছেন। সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানাতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

ইয়েমেনে অভিযানের বিষয়ে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট। তাতে বলা হয়, ইরাকে কাশেম সোলায়মানি এবং ইয়েমেনে তার ঘনিষ্ট সহযোগী আবদুল রেজা শাহ আলীকে হত্যার চেষ্টা করে মার্কিন বাহিনী। তারা দুজনই কুদস ফোর্সের শীর্ষ কমান্ডার।

এরপরই পেন্টাগনের মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সেন্ট্রাল কমান্ডের বরাতে ‘অন দ্যা রেকর্ড’ হিসেবে একটি রুটিন বিবৃতি প্রকাশের কথা জানালো মার্কিন গণমাধ্যম।

এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইরানবিষয়ক বিশেষ দূত ব্রায়ান হুক বলেছিলেন, আবদুল রেজা শাহ আলী ও তার সহযোগীদের বিষয়ে কোনো তথ্য কেউ দিতে পারলে ১৫ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, কাশেম সোলায়মানিকে হত্যার প্রতিশোদ নিতে গত বুধবার ইরাকের দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে অন্তত ২২টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড। এ বাহিনীর সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে ইরানি গণমাধ্যমগুলো দাবি করে, ওই হামলায় কমপক্ষে ৮০ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরো ২০০ সেনা আহত হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, কোনো মার্কিন সৈন্য মারা যায়নি, এমনকি ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে খুবই সামান্য।