ডেস্ক : বহুল প্রতীক্ষিত ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট বা ই-পাসপোর্ট যুগে প্রবেশ করলো বাংলাদেশ। বুধবার রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পরিষেবা ও স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ সময় তিনি বলেন, মুজিববর্ষের প্রথম উপহার হলো ই-পাসপোর্ট। দক্ষিণ এশিয়ায় আমরাই প্রথম ই-পাসপোর্ট শুরু করলাম, আরও একধাপ এগিয়ে গেলো বাংলাদেশ। এতে অতীতের মতো এখন আর গলাকাটা পাসপোর্ট হবে না, মানুষও আর ধোঁকায় পড়বে না।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরাও পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন সেবা যুগোপযোগী করতে চাই। তাই ই-পাসপোর্টের সঙ্গে ই-গেটও সংযোজিত হচ্ছে। এটি হলে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট সেবা আরও সহজ, স্বাচ্ছন্দময় ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হবে। এর মাধ্যমে জাতির পিতার সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আরও একটি মাইল ফলক স্পর্শ করলাম আমরা।

তিনি জানান, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সব উদ্যোগ ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। দেশের ৬৪ জেলায় ৬৯টি পাসপোর্ট অফিস, ৩৩টি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট, বিদেশস্থ ৭৫টি বাংলাদেশ মিশনের পাসপোর্ট ও ভিসা উইংয়ের মাধ্যমে পাসপোর্ট, ভিসা ও ইমিগ্রেশন সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি ই-পাসপোর্ট উদ্বোধন উপলক্ষ্যে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের (ডিআইপি) কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর ছবি তুলে নিয়ে যান। ডিআইপি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ জানান, প্রাথমিকভাবে উত্তরা, যাত্রাবাড়ি ও আগারগাঁও আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ই-পাসপোর্ট সেবা শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে ৭২টি আঞ্চলিক ও বিভাগীয় অফিস এবং ৮০টি বিদেশি মিশনে এ সেবা চালু করা হবে।

আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইসিএও) তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ১০০টিরও বেশি ই-পাসপোর্ট ইস্যুকারী দেশ ও সংস্থা রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের ৪৯০ মিলিয়ন ই-পাসপোর্টধারী লোক রয়েছে। বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট ও ই-গেটে সেবায় কাজ করছে জার্মান সংস্থা ভেরিডোস জিএমবিএইচ। ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই ডিআইপি ও ভেরিডোস জিএমবিএইচর মধ্যে এ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।