উজ্জ্বল চক্রবর্তী শিশির, দুপচাঁচিয়া(বগুড়া) প্রতিনিধিঃ

করোনা ভাইরাসের কারণে মাথায় হাত পড়েছে বগুড়া দুপর্চাঁচিয়া উপজেলার কর্মকারদের। প্রতি বচর কোরবানি ঈদে গ্রামের হাট বাজার ও পাড়া মহল্লায় তাদের তৈরি দা, চাকু, বটি ব্যাপকহারে বিক্রয় হলেও এবছর দেখা দিয়েছে মন্দাভাব।
এজন্য প্রাচীন এই কামার শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছে তারা।

আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে অন্য সময়ের তুলনায় কর্মকার বা কামারীরা দা, চাকু, বটি বানানোর কাজে ব্যস্ততম সময় কাটাচ্ছেন।
আগামী ১লা আগষ্ট মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল আযহা । এই ঈদকে সামনে রেখে দুপচাঁচিয়া কর্মকার বা কামারীরা এক মাস আগে থেকে দা, চাকু, বটি ইত্যাদি তৈরী করে খুব উৎসাহ নিয়ে বিভিন্ন গ্রামের গঞ্জের হাট বাজারে বিক্রয় করে।
কিছুদিন আগেও দুপচাঁচিয়া তালোড়া ইউনিয়নে কৈল কর্মকার পাড়া, দুপচাঁচিয়া সদর বোরাই কর্মকার পাড়ার কর্মকারেরা দিন-রাত পরিশ্রম করে দা, বটি, চাকু তৈরী করার কাজে ব্যস্ততম সময় পার করছেন।
কিন্তুু এবছর মহামারী করোনা ভাইরাসের কারনে কিছুটা হলেও বিক্রি কম বলে জানিয়েছেন নিখিল চন্দ্র কর্মকার।
তিনি আরো বলেন চায়না ও বার্মা থেকে আমদানীকৃত রেডিমেট চাকু, দা হার্ডওয়্যার্সের দোকানে সান দিয়ে ধারালো করে অনেক দোকানদার বিক্রয় করছেন। এতে করে কামারীদের চির প্রাচীনতম সনাতনী পদ্ধতিতে তৈরী করা দা, চাকু, বটি ব্যবসায় হিমশিম খেতে হয়। এ দেশে মৃৎ শিল্প, কর্মকার বা কামার শিল্প, বাঁশের তৈরী কুলা চালুন শিল্প কারীগরদের সরকারীভাবে উৎসাহ যোগাতে হবে। কারণ এই ব্যবসার প্রাচীনতম ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে সরকার বিভিন্ন ভাবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে তাদেরকে সহযোগিতা করলে ঐ সব কারিগর ডাল ভাত খেয়ে এই শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ধরে রাখতে পারবে বলে জানায়। তা না হলে অতি শীঘ্রই উল্লেখিত শিল্পগুলি কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে।