নোতুন খবর.কম :
বগুড়ায় চাচা-চাচির দাম্পত্য সম্পর্ক নষ্ট করতে চাচির নামে ‘মিথ্যা ও কাল্পনিক’ তথ্য দিয়ে বিভিন্ন জনকে ইমেইল করার অভিযোগে ভাতিজা মির্জা শামীম হাসানকে (৩১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।মির্জা শামীম হাসান বগুড়ার মির্জা সেলিম রেজার ছেলে ও ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

শুক্রবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সভাকক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বিপিএম বার জানান, ভুক্তভোগী নারী শামীম হাসানের চাচি হন। সম্প্রতি একটি ভুয়া আইডি থেকে বগুড়ার গণমাধ্যমকর্মীসহ নানা পেশার ১২৫ ব্যক্তির কাছে ওই নারীর ছবিসহ একটি ইমেইল পাঠানো হয়। তাতে ওই নারীর চরিত্র সম্পর্কে ‘মিথ্যা ও কাল্পনিক’ তথ্য উপস্থাপন করা হয়। ২৫ জুন ভূক্তভোগী নারী সদর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়েরের পর বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার টিম।

পুলিশ সুপার জানান, বৃহস্পতিবার রাতে আটকের পর শামীম জানিয়েছেন, তিনি ওই নারীকে পছন্দ করতেন। তাই সাংবাদিক এবং পরিচিতদের মধ্যে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে চাচা-চাচির সম্পর্ক নষ্ট করার উদ্দেশ্যে তিনি ইমেইলগুলো পাঠিয়েছিলেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামী জানায় যে, মহিলা সম্পর্কে তার চাচিমা। তার চাচা ঢাকায় চাকুরি করে এবং চাচি বগুড়া শহরস্থ একটি পত্রিকা অফিসে কাজ করে। গ্রেফতাকৃত আসামী তার চাচিকে মনে মনে পছন্দ করতো বিষয়টি তার চাচি জানতে পারলে তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। ফলে আসামী চাচীর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বগুড়া শহরের সাংবাদিকদের ইমেইল এ্যাড্রেস সংগ্রহ করে তার চাচির নাম ও ছবি ব্যবহার করে তার চারিত্রিক বিষয়ের মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক কথা তুলে ধরে জঘন্য ভাষায় একটি মেইল তাদের ইমেইলে পাঠিয়ে দেয়। গ্রেফতারকৃত আসামীর উদ্দেশ্য ছিল উক্ত মেইলের কারনে তার চাচা-চাচির সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গেলে সেই সুযোগে সে তার কাছে ঢাকায় নিয়ে যাবে।
আসামীর জব্দকৃত ডিভাইস গুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, আসামীর ডিভাইসে এজাহারে উল্লেখিত ইমেইল ও সেই ইমেইল হতে বগুড়া জেলার সাংবাদিকদের ইমেইলে তাহার চাচিমার চারিত্রিক বিষয়ের মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক কথাবার্তা লিখে মেইল পাঠানোর তথ্য প্রমান পাওয়া যায়। এছাড়াও আসামী শামীম বিভিন্ন সময়ে কু-কর্মে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন নামে ৯৬টি ইমেইল এ্যাড্রেস খোলে যাহা তার কম্পিউটারের ফাইলে সংরক্ষণ করা আছে। এছাড়াও আটকৃত আসামী নিজেকে কখনো ইন্জিনিয়ার, কখনো আইনজীবী, কখনো লেখক, আবার কখনো সাংবাদিক বলে পরিচয় দেয় এবং সমাজের অনেক বড় বড় পদের লোকজনের সাথে তার, অবাধ চলাফেরা ও বন্ধুত্তপূর্ণ সম্পর্ক আছে বলেও দাবি করে।
গ্রেফতারকৃত আসামী মির্জা শামীম হাসান নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে E.MBA এর অষ্টম সেমিষ্টারে অধ্যয়নরত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়। গ্রেফতারকৃত আসামীকে উল্লেখিত মামলায় বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করা হইবে।