সাব্বির হাসান গাবতলী (বগুড়া) প্রতিনিধি ঃ বগুড়ার গাবতলীতে জমি-জমার বিরোধের জের ধরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষকসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০জন আহত হয়েছে। আহতদেরকে গাবতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
জানা গেছে, গাবতলী উপজেলার দুর্গাহাটা ইউনিয়নের গড়েরবাড়ী গ্রামের মৃত রহমত উল্ল্যার পৈত্রিক জমির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে গড়েরবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবু হারেজ ও তার ভাই আব্দুল গফুরের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ ঘটনায় গ্রামে ও থানায় একাধিকবার শালিসী বৈঠক হলেও তার কোন সমাধান মিলেনি। আব্দুল গফুর বৈঠকের রায় অমান্য করার কারণে জমির বিরোধ নিস্পত্তি হয় না বলে হারেজের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। ওই জমি নিয়ে গত ১মাস আগে উভয়পক্ষের আইনজীবি নিয়ে থানায় এস আই সুজাউদৌলার মধ্যস্থতায় শালিসী বৈঠক হয়। এরপর আবারো আব্দুল গফুর তার ছেলেদের নিয়ে আবু হারেজের জমিতে আইল দেয় ও জমি দখলের চেষ্টা করে। এ নিয়ে উভয়ের মধ্য উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। গতকাল শনিবার আব্দুল গফুর পুর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তার ছেলে ও ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে শিক্ষক আবু হারেজের দখলীয় জমিতে চাষ করতে যায়। এতে আবু হারেজ বাধা দিলে রামদা, হাসুয়া, ধারালো অস্ত্রসহ লাঠিসোটা নিয়ে আব্দুল গফুর ও তার দলবল হারেজের উপর হামলা চালায়। হারেজের চিৎকারে তার সন্তান ভাই ভাতিজা এগিয়ে এলে তাদের উপরও কুপিয়ে জখম করা হয়। হামলাকারীদের রামদার আঘাতে শিক্ষক আবু হারেজের একটি আঙ্গুল দ্বি-খন্ডিতসহ মাথার ও হাটুতে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। অন্যান্য গুরুতর আহতরা হলেন, মহিদুল ইসলাম, মন্তেজার রহমান, মোস্তাফিজার রহমান, রাশেদ মিয়া ও সুমন। আহতদেরকে গাবতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়েছে। এদের মধ্যে শিক্ষক আবু হারেজ ও মহিদুলের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাদেরকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। অপরদিকে আব্দুল গফুরের দাবী, তার স্ত্রী রাহেলা, ছেলে কাউছার, সিদ্দিকসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে থানার ওসি সাবের আহমদ রেজা বলেন, এ সংক্রান্ত কোন অভিযোগ হাতে পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।