সাব্বির হাসান, গাবতলী (বগুড়া) প্রতিনিধি ঃ বগুড়ার গাবতলীতে প্রেম প্রতারনার শিকার হয়ে বিষপানে আত্মহত্যা করেছে এক কলেজ পড়–য়া ছাত্রী। গত বুধবার উপজেলার দূর্গাহাটা ইউনিয়নের গড়েরবাড়ী পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। লাশের ময়না তদন্ত শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায় জেমির দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পারিবারিকসূত্র জানায়, উপজেলার গড়েরবাড়ী পূর্বপাড়া গ্রামের জহুরুল ইসলাম আকন্দের মেয়ে গাবতলী সরকারী ডিগ্রী কলেজের একাদশ শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী জেমি আকতার (১৮) ছোট বেলা থেকেই দাদা-দাদীর কাছে বেরে ওঠেন। বাবা জহুরুল জীবিকার তাগিদে ঢাকায় রিক্সা চালানোর কারণে দুই বোন সুমি ও জেমি দাদা আঃ জলিল আকন্দ ও দাদী জহুরা বেগমের কাছে থাকতেন। হাইস্কুলে পড়ার সুবাদে জেমির বড়বোন সুমির সঙ্গে ভাইবোনের সম্পর্ক গড়ে তোলেন দূর্গাহাটা গড়েরবাড়ী পশ্চিমপাড়া গ্রামের আবু হারেজ মাষ্টারের ছেলে তন্ময় হাসান সুমন (২১)। বিগত একবছর আগে সুমির বিয়ে হয়ে গেলে পরবর্তীতে সুমির ছোট বোন জেমির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে সুমনের। বিষয়টি জেমির পরিবারের লোকজন জানলে জেমিকে নিষেধ করেন। তারপরও জেমি গোপনে সুমনের সঙ্গে গভীর প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। এমতবস্থায় চলতি মাসের ২ডিসেম্বর তন্ময় হাসান সুমন একই ইউনিয়নের নিজ দূর্গাহাটা গ্রামের মোস্তা মোল্লার মেয়ে আকলিমাকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন। বিয়ের পরেও সুমন ২য় বিয়ে করার কথা বলে জেমির সঙ্গে প্রতারনা করে আসছিল। এরই একপর্যায়ে জেমি আকতার গত ৯ডিসেম্বর সকাল অনুমান ৭টায় বিয়ের দাবীতে সুমনের বাড়ীতে যায়। তখন সুমন ও পরিবারের লোকজন জেমিকে অপমান ও আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়ে বাড়ী থেকে তারিয়ে দেয়। এরপর ক্ষোভে-অভিমানে জেমি বাড়ীতে ফিরে একটি চিরকুট লিখে রেখে অনুমান সকাল সাড়ে ৮টায় বিষপান করেন। পরে বাড়ীর লোকজন টের পেলে সঙ্গে সঙ্গে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিনই দুপুর ২টায় জেমি মারা যান। লাশের ময়না তদন্ত শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায় জেমির দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। জেমির লেখা চিরকুটে যা ছিল “আমার এ সবের জন্য শুধু তন্ময় দায়ী। আমার কিছু হয়ে গেলে ওকে যেন ছেড়ে দেসনে তোরা। ও যেন কঠিন শাস্তি পায় তার ব্যবস্থা করিস রে। ও তোর বোনের জীবনটা শেষ করে দেসে রে। আমায় তোরা ক্ষমা করে দেস ভালো থাকিস।”

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মিঠু বলেন, জেমির সঙ্গে সুমনের গভীর প্রেম ছিল বলে শুনেছি। জেমি অন্তঃস্বত্ত¡া বলে শোনা যাচ্ছে। জেমির আত্মহত্যার পর থেকে তন্ময়ের পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে গাবতলী মডেল থানার ওসি মোঃ নুরুজ্জামান স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তবে এ সংক্রান্ত কোন অভিযোগ আমরা হাতে পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।