সাব্বির হাসান, গাবতলী (বগুড়া) প্রতিনিধি ঃ বগুড়ার গাবতলীতে দাদন ব্যবসায়ী শামীম (২৩) হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন হয়েছে। মাত্র ৩দিনের ব্যবধানে এ হত্যার রহস্য উন্মোচন হয়। পূর্ব শত্রুতা ও অর্থের কারণে নিহত শামীমের ঘনিষ্ট বন্ধু গ্রেফতারকৃত পারভেজ প্রামানিক ওরফে হারেছ (২৫) এই হত্যাকান্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বগুড়ার সিনিয়র চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট গাবতলী আদালতে ১৬৪ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। হারেজসহ ৪বন্ধু মিলে পরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে শামীমকে হত্যা করে বিলে কচুরীপানার মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিলো। নিহত শামীম হোসেন কুমিল্লা জেলার দায়রা গ্রামের সাহাদত হোসেনের ছেলে।
উল্লেখ্য, মা বিদেশ এবং বাবা ঢাকায় চাকুরী করার কারণে শামীম ছোটবেলা থেকেই বগুড়া গাবতলীর নশিপুর ইউনিয়নের নিজগ্রামে নানা আঃ সামাদের বাড়ীতে বসবাস করতো। সেখানে শামীম তার মামা মহিদুল ইসলামের দাদন ব্যবসার টাকা উত্তোলনের কাজ করতেন। গত ৬নভেম্বর রাত সাড়ে ৮টা থেকে শামীম নিখোঁজ হন। নিখোঁজের পরদিন শামীমের মামা মহীদুল বাদী হয়ে থানায় একটি জিডি করেন। জিডির ৩দিন পর ৯নভেম্বর সকালে নিজগ্রাম থেকে প্রায় ১কিলোমিটার দূরে সোনাকানিয়া দহের আগারীতে জমির কচুরিপানা পরিস্কার করতে গিয়ে স্থানীয় এক কৃষক শামীমের ক্ষতবিক্ষত লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা শাহাদত হোসেন বাদী হয়ে ৯নভেম্বর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজগ্রামের মোজাফ্ফর আলী আকন্দের ছেলে আতিকুর রহমান (১৭)নামের এক যুবককে ১১নভেম্বর থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জেলহাজতে প্রেরণ করে। এরপর ১২নভেম্বর নিজগ্রামের মোন্তেজার প্রামানিকের ছেলে পারভেজ প্রামানিক ওরফে হারেছ ও একই গ্রামের বাবলু প্রামানিকের ছেলে আরাফাত হোসেন (২০)কে গ্রেফতার করে বগুড়ার সিনিয়র চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট গাবতলী আদালতে হাজির করলে এদের মধ্যে পারভেজ প্রামানিক ওরফে হারেছ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা ১৬৪ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। এ ব্যাপারে থানার ওসি নুরুজ্জামান বলেন, শামিম হত্যাকান্ডে হারেছসহ ৪জন সরাসরি জড়িত ছিলো। এরা পরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে শামীমকে হত্যা করে বিলে কচুরীপানার মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিলো। হারেছ গত ১২নভেম্বর বিকেলে আদালতে ১৬৪ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে।