সাব্বির হাসান, গাবতলী (বগুড়া) প্রতিনিধি ঃ বগুড়া গাবতলীর তরণীহাটের সরকারী খাস জায়গায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছদের পর আবারও নতুন করে প্রায় দেড় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বছরের ৩জুলাই জেলা প্রশাসনের নির্দেশে তরণীহাটে গড়ে উঠা অবৈধ দোকান-ঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয়। ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়ার কিছুদিন পরই থেকেই প্রশাসনকে বৃদ্ধাগুলী দেখিয়ে যার যেখানে দোকান ও গুদাম ঘর ছিল স্ব-স্ব ব্যক্তি ওইসবস্থানে আবারও দোকান ঘর নির্মাণ করেছে। এমনকি হাটের মধ্যে চলাচলের রাস্তা অবরুদ্ধ করে নতুন দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে। তরণীহাটের ইজারাদার জাহাঙ্গীর আলম ও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় হাটের সরকারী খাস জায়গায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে ইউএনওসহ বিভিন্ন দপ্তরের অভিযোগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ দেয়ার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজ পর্যন্ত কোন সুরহা মেলেনি।
সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বালিয়াদিঘী ইউনিয়নের সরকারী ৯একর জমির উপর তরণীহাট। সপ্তাহের শুক্রবার ও সোমবার হাটটি পরিচালিত হয়। তরণীহাট সৃষ্টির পর থেকেই স্থানীয় প্রভাবশালী মহল হাটের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে টিনসেট পাকাঘর, সেমিপাকা, টিনসেট দোকান ও গুদাম ঘর নির্মাণ করে ব্যবসা করে আসছিল। এতে করে সরকার প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। বর্তমান সরকার সারাদেশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসাবে গাবতলীর নাড়–য়ামালা হাট এবং তরণীহাটের গড়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সময় ও তারিখ উল্লেখ করে গণনোটিশ জারি করেন। হাটের অবধৈ স্থাপনার মালিকদেরা জারিকৃত নোটিশ পেয়ে দোকান ও গুদাম ঘর সরিয়ে না নিলে গত বছরের ৩জুলাই তরণীহাটে প্রায় দেড়-শতাধিক অবৈধ স্থাপনা জেলা প্রশাসনের নির্দেশে এক্সজিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট জহুরুল ইসলামের নেতৃত্বে ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালমা আক্তারসহ পুলিশের সহযোগিতায় নাড়–য়ামালা হাট ও তরণীহাটে বুলডুজার দিয়ে অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয়। এর কিছুদিন পর থেকেই প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে যার যেখানে দোকান ও গুদাম ঘর ছিল স্ব-স্ব ব্যক্তিরাই দোকান-গুদাম ঘর আবারও ওই সবস্থানে ঘর নির্মান করেছে। গাবতলী ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আব্দুল খালেক সরেজমিনে তরণীহাটে গিয়ে ১শ’ ৩৫টি অবৈধ দোকান ও গুদাম ঘর নির্মানের তালিকা করেছে। কিন্তু সরকারী খাস জমিতে গড়ে উঠা সেমিপাকা টিনসেট ও টিনের বেড়া দিয়ে নির্মানাধীন অবৈধ স্থাপনা আজ পর্যন্ত উপজেলা ভূমি অফিস কোন প্রতিকার করতে পারেনি। এছাড়াও ইজারাদার জাহাঙ্গীর আলমের সহযোগিতায় মালিয়ানডাঙ্গা গ্রামের ইদ্রিস ফকির (৫৫) ও লিটন মোল্লা (৩৫) হাটের মধ্যে চলাচলের রাস্তা অবরুদ্ধ করে নতুন করে ২টি দোকান ঘর নির্মাণ করছে। এদিকে সরকারে নিকট থেকে লিজকৃত জায়গায় দোকান ঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন আগে থেকে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল স্থানীয় মালিয়ানডাঙ্গা গ্রামের মৃত নরেন্দ্র নাথ সরকারের ছেলে সনৎ কুমার সরকার। কিন্তু সনৎ কুমার সরকারের দোকানের সামনে রাস্তা অবরুদ্ধ করে নতুন করে দোকান নির্মাণ করছে ইদ্রিস ফকির ও লিটন মোল্লা। এতে বাধা দিলে সংখ্যালঘু আখ্যায়িত করে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দেয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় সনৎ কুমার সরকার গত বছরের ১৭ডিসেম্বর গাবতলীর ইউএনও, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), থানার ওসি এবং ১৮ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ প্রদান করেছে। অভিযোগ দেয়া ১মাস পেরিয়ে গেলেও অদ্যবধি প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এতে করে চরম হতাশা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার। শুধু ইদ্রিস ফকির ও লিটন মোল্লাই নয় এ রকম প্রায় দেড় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেছে আরও অনেকে। আর তাদের ঘর নির্মাণে আর্থিক সুবিধা নিয়ে সহযোগিতা করছে হাটের ইজারাদার জাহাঙ্গীর আলম ও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নেতা। এ ব্যাপারে হাটের ইজারাদার জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে অজুহাত দেখিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ রওনক জাহানের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি বলেন, গত বছরের ৩জুলাই তরণীহাটে প্রায় দেড়-শতাধিক অবৈধ স্থাপনা জেলা প্রশাসনের নির্দেশে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তবে তরণীহাটে আবারও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছে বিষয়টি জেনেছি। সরকারী সার্ভেয়ার দিয়ে হাটের জমি মাপযোগ করে ও সকল নথি প্রস্তুত করে জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় অবৈধ স্থাপনাকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।