ডেস্ক : পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান গিলগিট-বালতিস্তানকে অস্থায়ী প্রদেশের মর্যাদা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন । গত রোববার বিকেলে তিনি ঘোষণা দেন। তবে পাকিস্তানি সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে ভারত।

আজাদ কাশ্মির ও লাদাখ সীমান্তঘেঁষা গিলগিট এখন পাকিস্তানের সবচেয়ে উত্তরের প্রশাসনিক অঞ্চল। এটি আগে উত্তরাঞ্চল নামে পরিচিত ছিল। এই অঞ্চল নিয়ে ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারত ও চীনের বিরোধ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই বিরোধের কোনো মীমাংসা না হলেও অঞ্চলটি বর্তমানে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে সেদেশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তার পরও ভারত বলছে, সেখানে নির্বাচন বেআইনি। ফলে পাকিস্তান, ভারত ও চীনের মাঝে বিরোধপূর্ণ দিল্লি অধিকৃত জম্মু-কাশ্মির নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সোচ্চার হয়েছে। তা নিয়ে ভারতও বলার চেষ্টা করছে, কাশ্মির, লাদাখ ও গিলগিট তাদের দেশের অংশ।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন, গিলগিট-বালতিস্তান ভারতীয় ভূখণ্ড, যা জোর করে দখলে রেখেছে পাকিস্তান। এখন সেটির চরিত্রগত পরিবর্তনের চেষ্টা করছে পাক সরকার। দেশটির এ বেআইনি কাজ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে ভারত।

ভারত মনে করে, ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগের চুক্তি অনুযায়ী অঞ্চলটি ভারতীয় জম্মু-কাশ্মিরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেখানে দিনের পর দিন মানুষদের স্বাধীনতা খর্ব করে চলেছে পাকিস্তান, সেটাই প্রমাণ করে দেশটির সর্বশেষ এই সিদ্ধান্ত। এ থেকে সরে আসার জন্য ইসলামাবাদের প্রতি আহ্বান জানান নয়াদিল্লির মুখপাত্র।

এর আগে গিলগিট-বালতিস্তানে ১৫ নভেম্বর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছিল পাকিস্তান। তাতেও তীব্র আপত্তি জানিয়ে ভারত বলেছিল, দখল করা ওই অঞ্চলে ভোট ঘোষণা বেআইনি। এর জবাবে পাকিস্তানও ফের কাশ্মির ইস্যুতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সরব হয়েছে।

তখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বলা হয়, গিলগিটে ভোট নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে ভারত। এ দেশ দুটির মধ্যে চূড়ান্ত বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে গিলগিটে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে নির্দেশ দিয়েছিল পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। তখনও এর তীব্র বিরোধিতা করে ওই অঞ্চল নিজেদের বলে দাবি করেছিল ভারত। বছরখানেক আগেই গিলগিটে ভোট হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে তা পিছিয়ে আগামী ১৫ নভেম্বর করা হয়। অঞ্চলটিতে মোট ২৪টি আসন রয়েছে।