প্রতিনিধি
গুজবের নগরিতে পরিনত হয়েছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলা। গত কয়েকদিনে সেখানে কয়েকজনকে ছেলেধরা গুজব রটিয়ে মারপিট করা হয়েছে। এগুলোর অনেকটাই রয়েছে পূর্ব বিরোধের জের। এ অবস্থায় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবাইকে গুজবে কান না দেয়ার আহবান জানানো হয়েছে। গত রোববার (২১জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের শেরুয়া গ্রামে ‘ছেলেধরা’ গুজব রটিয়ে অর্নাস পড়–য়া এক শিক্ষার্থীকে গণপিটুনি দেয়া হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সেখানে চিকিৎসা শেষে থানায় নিয়ে আসে। গণপিটুনির শিকার ওই শিক্ষার্থীর নাম মো. বাবুল হোসেন (১৮)। তিনি একই উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের পানিসারা গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। জানা যায়, বাবুল হোসেন বগুড়ার একটি কলেজে অনার্স প্রথমবর্ষে পড়াশোনা করে। পূর্বশক্রতার জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন এই গুজব ছড়িয়ে তাকে পিটুনি দেয়। একইভাবে গত ২০জুলাই সন্ধ্যায় শহরের খন্দকারটোলা এলাকা থেকে এক স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে পুলিশ। ধুনট উপজেলার মাটিকোড়া গ্রামের সাকির হোসেন রিটুর মেয়ে সে। এছাড়া স্থানীয় মাঠপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টমশ্রেণীতে পড়ালেখা করে। ভুলবশত শেরপুরে আসে ওই স্কুলছাত্রী। একপর্যায়ে পুলিশ তাকে উদ্ধারের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। এই ঘটনার একদিন আগে শহরের উত্তরসাহাপাড়া এলাকাতেও ‘ছেলেধরা’ গুজব ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে মসজিদের মাইকেও অপরিচিত লোকদের সম্পর্কে সচেতন থাকতে প্রচার করা হয়। সপ্তাহজুড়ে এমন সব ঘটনায় গোটা উপজেলায় ‘ছেলেধরা’ গুজবে আতঙ্ক তৈরী হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেশকয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন মাধ্যমে দেশের অন্যান্য স্থানের ন্যায় এ উপজেলাতেও ‘ছেলেধরা’ গুজব ছড়িয়েছে। ফলে গ্রামের সাধারণ মানুষ কোন কিছু না বুঝেই অপরিচিত লোকজন দেখলেই তাকে ‘ছেলেধরা’ হিসেবে আটক করছেন। একইসঙ্গে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করছে। এ অবস্থায় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবাইকে গুজবে কান না দেয়ার আহবান জানানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) বুলবুল ইসলাম বলেন, ছেলেধরা ও গলাকাটার বিষয়টি সম্পুর্ণ গুজব। একটি কু-চক্রী মহল এই গুজবটি ছড়িয়ে তাদের অসৎ উদ্দেশ্যে হাসিলের পাঁয়তারা করছে। তাই এই গুজবে কান না দেয়ার আহবান জানিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, অপরিচিত কোন ব্যক্তিকে সন্দেহ হলে পুলিশের কাছে সোপর্দ করতে পারেন। কিন্তু তাকে গণপিটুনি দেয়া যাবে না। কলেজ পড়–য়া ছাত্র বাবুল হোসেন তার বন্ধু বাঁধনের শেরুয়া গ্রামস্থ শ^শুড়বাড়িতে আসে স্বামী-স্ত্রীর বিরোধ নিষ্পত্তি করতে। কিন্তু বিষয়টি ভালোভাবে নেননি তার বন্ধুর শ^শুরবাড়ির লোকজন। এছাড়া তাদের সঙ্গে বাবুলের পূর্ববিরোধও ছিল। তাই তাকে ছেলাধরা হিসেবে গুজব রটিয়ে গণপিটুনি দেয়া হয়। এছাড়া অষ্টমশ্রেণীর ওই ছাত্রী স্কুলছুটির পর ভুলবশত শেরপুরগামী বাসে উঠে এখানে আসে। একপর্যায়ে খন্দকারটোলা এলাকায় গিয়ে বিষয়টি টের পায়। এরপর ওই ছাত্রী কান্না করতে থাকলে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দিলে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। একইসঙ্গে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আর এসব ঘটনাকেই ছেলেধরা গুজব বলে ছড়িয়ে যায় বলে জানান তিনি।