ডেস্ক : স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বেনসন, গোল্ড লিফ, স্টার, নেভি, হলিউড এবং ডার্বি সিগারেটে ভারী ধাতুর উপস্থিতি পেয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। যার কারণে ধূমপায়ী তো বটেই, পরোক্ষভাবে অন্যরাও ক্যান্সারের মতো মরণঘাতী রোগের ঝুঁকিতে আছেন। এর আগে গুল, জর্দা ও খয়েরের মধ্যে একই পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

জানা গেছে, সম্প্রতি নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ তিনটি ল্যাবটেরি তথা বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ, পরমাণু শক্তি কমিশন এবং ওয়াফেন রিসার্চ ল্যাবে উল্লিখিত ছয়টি সিগারেটের নমুনা পরীক্ষা করে।

পরীক্ষায় দেখা যায়, বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে প্রচলিত এসব ব্র্যান্ডের সিগারেটে ব্যবহৃত প্রতি কেজি তামাকে শূন্য দশমিক ৪৯ থেকে ১০০ দশমিক ৯৫ গ্রাম সীসা, শূন্য দশমিক ৪১ থেকে ১ দশমিক ৩৭ গ্রাম ক্যাডমিয়াম এবং শূন্য দশমিক ৮২ গ্রাম থেকে ১ দশমিক ৪৯ গ্রাম ক্রোমিয়াম রয়েছে।

গবেষকরা বলছেন, এসব ভারি ধাতু শুধু ধূমপায়ীদের জন্যই ক্ষতিকর তা নয়, এর কারণে পরোক্ষ ধূমপায়ীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মাত্রাও বাড়ে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির জয়েন্ট সেক্রেটারি গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক বলছেন, ‘একটি সিগারেট তৈরিতে প্রায় ৪ হাজার ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। এদের মধ্যে কিছু কিছু রাসায়নিক সরাসরি ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য দায়ী। সিগারেটের এসব ক্ষতি মোকাবেলায় এখনো আমাদের পর্যাপ্ত তৎপরতা নেই।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব বিষয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে একটি চিঠি দিয়েছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

সংস্থাটির চেয়ারম্যান মাহাবুব কবির স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে আলোচিত ছয়টি ব্র্যান্ডের সিগারেটের তামাকে মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণ ভারি ধাতুর উপস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করে কিছু সুপারিশও করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২২টি কোম্পানির উৎপাদিত জর্দা, খয়ের ও গুলের নমুনা পরীক্ষা করে বিএফএসএ। এসব তামাক পণ্যেও উল্লিখিত ক্ষতিকর পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া যায়।পরে এক মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সেগুলো বাজার থেকে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।