নোতুন খবর. কম ঃ
শুক্রবার বিকেল ৪ টায় বগুড়া সাতমাথায় ঐতিহাসিক মুজিব মঞ্চে বগুড়া জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত ১৫ আগষ্ট, ১৭ আগষ্ট, ২১ আগষ্টের হামলাগুলো মূলত একই সূত্রে গাঁথা শীর্ষক ‘আলোচনা সভা’’ অনুষ্ঠিত হয়। জেলা শাখার সভাপতি ভিপি সাজেদুর রহমান সাহীন এর সভাপতিত্বে জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ জুলফিকার রহমান শান্ত’র সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়ার কৃতি সন্তান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ এর সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর সাবেক সহ সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রফি নেওয়াজ খান রবিন, সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বগুড়া পৌর শাখা, সুলতান মাহমুদ খান রনি, সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বগুড়া জেলা শাখা, আবু সুুফিয়ান সফিক, সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বগুড়া সদর উপজেলা শাখা, আব্দুস সালাম, ডালিয়া নাসরিন রিক্তা, হিফাজত আরা মিরা, রাজন, শরিফুল ইসলাম জিন্না, নাইমুর রাজ্জাক তিতাস।
জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক মোঃ মশিউর রহমান মামুন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানান, প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, বাঙালি জাতির ইতিহাসে ১৫ আগষ্ট এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। ১৯৭৫ সালের এদিনে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে ঘতকচক্রের হাতে ধানমন্ডির নিজ বাসভবনে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শাহাদত বরণ করেন। একই সাথে শহিদ হন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশুপুত্র শেখ রাসেলসহ অনেক নিকট আত্মীয়। এমন ঘটনা কেবল দেশের ইতিহাস নয়, পৃথিবীর ইতিহাসেও বিরল। আমি শোকাহত চিত্তে তাঁদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি এবং পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে সকল শহিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা মাহন স্বাধীনতার রূপকার। ১৯৪৮ সালে ভাষার দাবিতে গঠিত সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বেসহ ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন ‘৫৪ যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৫৮ এর সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ’৬২ শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলন, ’৬৬ এর ৬ দফা, ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭০ এর নির্বাচনসহ বাঙালির মুক্তি ও অধিকার আদায়ে পরিচালিত প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধিকার আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেন। এজন্য তাকে বারবার কারা বরণ করতে হয়।

বঙ্গবন্ধু বাঙালির অধিকারের প্রশ্নে ছিলেন আপোশহীন। ফাঁসির মঞ্চেও তিনি বাংলা ও বাঙালি জয়গান গেয়েছেন। দীর্ঘ চাড়াই-উতরাই পেরিয়ে এই মহান নেতা ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন পকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার উদ্দেশ্যে বজ্রকন্ঠে ঘোষণা করেন “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”, যা ছিল মূলত স্বাধীনতার ডাক। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তিনি স্বাধীনতার ঘোষনা দেন। এবং তাঁরই নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা বিজয় অর্জন করি। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ আজ অভিন্ন স্বত্তায় পরিণত হয়েছে। ঘতকচক্র জাতির পিতাকে হত্যা করলেও তাঁর নীতি ও আদর্শকে মুছে ফেলতে পারেনি। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন জাতির পিতার নাম এ দেশের লাখো-কোটি বাঙালির অন্তরে চির অমলিন, অক্ষয় হয়ে থাকবে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দীর্ঘ ২১ বছর সরকার গঠন করে। অতীতের জঞ্জাল সরিয়ে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ এই ৫ বছরে দেশে আর্থসামাজিক উন্নয়নের এক নব দিগন্তের সূচনা হয়। আমরা জাতির পিতার হত্যার বিচার শুরু করি। কিন্তু বিএনপি-জামাত জোট সরকার ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে এই হত্যর বিচার কাজ বন্ধ করে দেয়। ১৭ আগষ্ট, ২০০৫ সাল তারা সারা বাংলাদেশে ৬৩ জেলায় ৪৩৪ স্থানে সিরিজ বোমা হামলা করে ২ জনকে হত্যা ও ১০৪ জনকে আহত করে এবং ২০০৪ সালে ২১ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউতে গ্রেনেড হামলা করে ২৪ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করে, প্রায় ৩০০ অধিক নেতাকর্মী আহত হয়। গ্রেনেড এর স্প্রিনটারের আঘাতে এখনও অনেক নেতাকর্মী পঙ্গুত্ব বরণ করে মৃত্যুর সঙ্গে পানজা লড়ছে। এই ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার সকল আসামীদের রায় দ্রæত কার্যকর করার জন্য জোড় দাবী জানাচ্ছি।

দেশের জনগণ ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে পুনরায় বিপুল ভোটে বিজয়ী করে। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলোর রেখে যাওয়া অচলাবস্থা এবং বিশ্বমন্দা কাটিয়ে আমরা দেশকে দৃঢ় অর্থনৈতিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করার কাজ শুরু করি। গত সাড়ে ১১ বছরে আমরা দেশের প্রতিটি সেক্টরে কাঙ্খিত অগ্রগতি অর্জন করেছি। আর্থসামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে ‘রোল মডেল’। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করেছে। বর্তমান প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের মহামারীর মধ্যেও আমাদের সরকার২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আরো উপস্থিত ছিলেন লুৎফুল বারী বাবু, এ. কে. এম এনামুল বারী টটুল, প্রভাষক মনিরুজ্জামান মনির, মামুনুর রশিদ মামুন, গোলাম, গোলাম হোসেন, মাহাম্মদ আলী সিদ্দিক, হাজী আলাল, নাজমুল কাদির শিপন, নুরুল আমিন শিশির, বনি ছদর খুররম, রেজাউল করিম রিয়াদ, নুরুন্নবী সরকার, আরিফুল হক বাপ্পী, খালেকুন্নাহার পলি, রশ্মি স্বর্ণা, মীর জোবায়ের জয়, আব্দুল ওয়াদুদ পাপ্পু, এনামুল হক, ইমরান হোসেন রাজু, আয়নাল হক নয়ন, ফেরদৌস জামান মুকুল, মামুনুর রশিদ মামুন, সোহেল রানা, মিনহাজুল, নাজমুল হাসান ওরেঞ্জ, সোহানুল ইসলাম, রাশেদ ইসলাম এবং উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ।