ডেস্ক : বাঘের আক্রমণে মানুষের প্রাণহানি হয়েছে বা বাঘ মানুষ খেয়ে ফেলেছে এমন খবর অনেক সময়ই শোনা যায়। আবার মানুষ পিটিয়ে বাঘ মেরে ফেলেছে এমন ঘটনার সংখ্যাও কম নয়। তবে এবার ভারতের আসাম রাজ্যে একটি পূর্ণ বয়স্ক চিতাবাঘ মেরে সেটির মাংস দিয়ে বনভোজন করার ঘটনা ঘটেছে। খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময়।

জানা যায়, সম্প্রতি রাজ্যের গুয়াহাটির অটল রঙঢালি এলাকার চা বাগানে একটি চিতাবাঘ কয়েকজনের ওপর হামলা চালায়। এতে গ্রামবাসীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বাঘটিকে ধরার চেষ্টা করলে সেটি নদী পাড়ি দিয়ে পাশ্ববর্তী গ্রাম দিল্লিবাড়িতে ঢুকে পড়ে। পরে সেখানে গিয়েও মানুষজনের ওপর হামলা চালায় বন্যপ্রাণীটি।

এ সময় ওই গ্রামের বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে লাঠি-সোটা দিয়ে তাড়া করলে কিছুক্ষণ পর চিতাবাঘটি ক্লান্ত হয়ে যায় এবং তাদের হাতে ধরা পড়ে। পরে গ্রামবাসীরা ইট-পাথর মেরে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে বাঘটিকে মেরে ফেলে। তবে এতেই তাদের নৃশংসতা শেষ হয়নি। বাঘটির মাংস কেটে রান্না করে রীতিমতো বনভোজন করে খেয়ে ফেলে তারা।

গ্রামবাসীদের এমন নৃশংসতায় হতবাক দেশটির বনদপ্তর থেকে শুরু করে পশুপ্রেমীসহ সকলে। নজিরবিহীন এই ঘটনায় দেশটিতে চাঞ্চল্য ও নিন্দার ঝড় বইছে।

ভারতীয় বনদপ্তর জানায়, গ্রামবাসীদের তাড়া খেয়ে নদী পেরোতে গিয়ে চিতাবাঘটি ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সেই সুযোগে দিল্লিবাড়ী গ্রামের বাসিন্দারা বাঘটিকে কাবু করে ফেলে। পরে সেটিকে পিটিয়ে মেরে রান্না করে খেয়ে ফেলে তারা। এই ঘটনায় গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

গুয়াহাটির পুলিশ জানায়, নিকৃষ্ট এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে চিহ্নিত করার কাজ চলছে। শীঘ্রই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে এবং শাস্তি দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, চিতাবাঘ মেরে খেয়ে ফেলার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। তিন বছর আগেও গ্রামটিতে একটি চিতাবাঘ মেরে খাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। এছাড়াও দেশটির নাগাল্যান্ডে হরিণ, গণ্ডার, গুইসাপ ও হাতিসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী মেরে মাংস খাওয়ার ঘটনা ঘটে।