নোতুন খবর.কম : বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাবেক প্রচার প্রকাশনা ও সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নান। তার মরদেহ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় কয়েক দফা নামাজে জানাযা শেষে নিজ গ্রামের বাড়ি বগুড়ার সারিয়াকান্দি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন স্থানে দাফন করা হয়েছে।
সোমবার বেলা সাড়ে ১২টায় সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে তার লাশ বগুড়ার সোনাতলা সরকারি মডেল হাইস্কুল এন্ড কলেজ মাঠে নিয়ে আসা হয়। এরপর তার লাশ লাশবাহী গাড়িতে করে সোনাতলা শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর প্রায় ঘন্টাকালব্যাপি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় লাশ দেখার জন্য। শুধু সোনাতলা নয়, পার্শ্ববর্তী গাবতলী, সাঘাটা, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হাজার হাজার মানুষ তার লাশটি এক নজর দেখার জন্য ভীড় জমায়। বিভিন্ন মাধ্যমে লাখো জনতা উপস্থিত হয় ওই স্টেডিয়াম মাঠে।
সেখানে নামাজে জানাযায় উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার এড. ফজলে রাব্বী মিয়া, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন শফিক, বগুড়ার জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ, পদোন্নতি প্রাপ্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল, বগুড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক করতোয়ার সম্পাদক মোজাম্মেল হক লালু, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল আলম নয়ন, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি টি জামান নিকেতা, যুগ্ম সম্পাদক মুঞ্জুরুল আলম মোহন, আসাদুর রহমান দুলু, বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আখতারুজ্জামান, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক এড. জাকির হোসেন নবাব, উপজেলা চেয়ারম্যান এড. মিনহাদুজ্জামান লীটন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শফিকুর আলম, সহকারী কমিশনার ভুমি ছালমা আকতার, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আশরাফুর রহমান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জিয়াউল করিম শ্যাম্পু, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম বুলু, পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম নান্নু।
এরপর সংসদ সদস্য ও বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নানের মরদেহ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় (গার্ড অব অনার) প্রদান করা হয়। এরপর তার কফিনে ডেপুটি স্পীকার, কৃষিমন্ত্রী, জেলা প্রশাসক, বগুড়া জেলা আওয়ামীলীগ, বগুড়া প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ, উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা আওয়ামীলীগ, জেলা ছাত্রলীগ, সোনাতলা প্রেসক্লাব সহ বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতাকর্মী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করেন।
এরপর শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম মাঠে সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের দ্বিতীয় নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। পরে লাশবাহী এম্বুলেন্সে করে তার লাশ বগুড়ার সারিয়াকান্দি সারিয়াকান্দি ডিগ্রী কলেজ মাঠে বেলা সাড়ে ৩টায় নিয়ে যাওয়া হয়। সকাল থেকে প্রিয় সন্তানের লাশ শেষবারের মতো দেখার জন্য সকাল থেকে ভীড় জমাতে থাকে ওই কলেজ মাঠে হাজার হাজার বিভিন্ন বয়সী লোকজন। প্রিয় সন্তানের লাশ এক নজর দেখার জন্য শুধু কলেজ মাঠ নয়, আশপাশের রাস্তায় প্রায় ১ কিলোমিটার জুড়ে রাস্তায় অবস্থান নেয় লোকজন। এসময় সারিয়াকান্দি উপজেলা সদরের সকল দোকানপাট বন্ধ করে সপ্রিয় নেতার জানাযায় অংশনেয় সর্বস্তরের জনতা। প্রায় তিন ঘন্টা সবার জন্য লাশ দেখার সুযোগ করে দেয়া হয়। এরপর তৃতীয় নামাজে জানাযা শেষে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন স্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। তার নামাজে জানাযায় হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এসময় উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলেন তার স্ত্রী সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাহাদারা মান্নান, ছেলে। কান্না জড়িত কন্ঠে তারা আব্দুল মান্নানের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
বগুড়া-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম তার নামাজে জানাযায় উপস্থিত ছিলেন।
সকাল ৮টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার প্রথম নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। তার কফিনে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পীকার ড. শিরিন শারমিন, ডেপুটি স্পীকার ফজলে রাব্বী মিয়া সহ সহকর্মী বৃন্দ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
আব্দুল মান্নানের লাশ দেখার পর হাজার হাজার মানুষ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন বিভিন্ন বয়সের এবং বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষেরা।