উজ্জ্বল কুমার চক্রবর্ত্তী, দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ

করোনা ভাইরাসের কারনে হিন্দু সম্প্রদায়ের কীর্ত্তন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সাথে জড়িতরা। যারা কীর্ত্তন গেয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন, তারা বর্তমানে অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছেন। অনেকেই পেশা বদল করে করছেন অন্য কাজ।

হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ১২ মাসে ১৩ পূঁজা-পার্বন অনুষ্ঠিত হয়। এইটা প্রবাদ বাক্য নয় বাস্তবে হিন্দু ধর্মের মধ্যে ১২ মাসেই পূঁজা অর্চণা, হরিবাসর, পদাবলী ও নাম কীর্ত্তন মাসের তিথী অনুসারে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে চলতি বছরে ৮ই মার্চ মহামারী করোনা ভাইরাস রোগের প্রার্দুভাব শুরু হওয়ার পরে সরকারি ভাবে জন সমাগমের উপর নিষেধ আরোপ করে।

এই সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন মাস ও তিথী অনুযায়ী ধর্মীয় পালাগান, নাম কীর্ত্তন, পদাবলী কীর্ত্তন সপ্তাহ ও মাসব্যাপী বিভিন্ন মন্দিরে কীর্ত্তনিয়া দল নিয়ে প্রচার করা করতেন। সনাতন ধর্মের ভক্তবৃন্দ না থাকলে কীর্ত্তন গাওয়ার পরিপূর্নতা পায় না। একটি কীর্ত্তন দলে একাধিক সদস্য থাকে।
যেমন-খোল বাদক, কর্ত্তাল বাদক, বাঁশি ও হারমুনিয়াম বাদক সহ আরো অনেকে। কিন্তু কীর্ত্তন পরিচালনাকারীকে উল্লেখিত বাদ্যযন্ত্র বাদককে একই এলাকায় থেকে সংগঠিত করতে না পারলে বিভিন্ন এলাকা হতে নিয়ে একটি সুসংগঠিত কীর্ত্তন দল গঠন করতে হয়। দূভার্গ্যরে বিষয় যে, যারা কীর্ত্তন গেয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন, তারা বর্তমানে অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছেন।
কুন্দুগ্রাম এলাকার কীর্ত্তনিয়া দলের মাষ্টার শ্রী অন্তর চন্দ্র মহন্ত এর সংগে কথা বলে জানাযায়, তারা দীর্ঘ ৬টি মাস খুব কষ্টে নিজেদের সংসার চালাচ্ছেন ও দলে অন্যান্য যারা আছেন তাদেরকেও বিভিন্ন উপায়ে কষ্ট করে হলেও দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। তেমনি ১জন দুপচাঁচিয়া পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের কীর্ত্তনিয়া দলের মহিলা মাষ্টার শ্রীমতি লিপি রানী মহন্তর সংগে কথা বলে জানাযায়, মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে তার কীর্ত্তন গাওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তার একমাত্র উপার্জনশীল স্বামীর অটোভ্যান চালানোর উপর নির্ভর করে খুব কষ্ঠে জীবন যাপন করছেন। তাই এলাকার জন প্রতিনিধিদের কাছে জোর দাবী সরকারী ত্রান তহবিল হইতে সাহায্যের হাত বারিয়ে দিয়ে কীর্ত্তনিয়া সম্প্রদায়কে বাঁচিয়ে রাখবেন বলে সকল সনাতন ধর্মের ভক্ত বৃন্দের আশাবাদী।