নোতুন খবর.কম :
শুক্রবার থেকে সব সিনেমা হল খুলে দেয়ার ঘোষনা সরকার দিলেও স্বাস্হ বিধি মেনে লোকসান হবে ভেবে উদ্বোধন হচ্ছে না দেশেের তৃতীয় সিনে প্লেক্স বগুড়ার ‘মধুবন’।
মধুবন সিনেমা হলটির যাত্রা শুরু হয়, ৭৪ সালের ১০ অক্টোবর ” ডাকু মনসুর” সিনেমা দিয়ে। ২০১৮ সালে ” ঢাকা এ্যাটাক” ছবি প্রদর্শনের পর বন্দ হয়ে যায়। এরপর মধুবন সিনেমা হল থেকে মধুবন সিনে প্লক্সের চিন্তা মাথায় নিয়ে কাজ শুরু করা হয়।
খোজ নিয়ে জানা যায়, বগুড়া শহরের চেলোপাড়ার চান্চল্য, উন্নয়ন এবং আবাসিক এলাকা গড়ে উঠার পিছনে প্রয়াত অবসর প্রাপ্ত বৃটিশ সেনা অফিসার মধুবন হলের প্রতিষ্ঠাতা লেঃ এ এম ইউনুস এর অবদান বেশী। মধুবন সিনেমা হল হওয়ার পর আরও জমজমাট হয়ে উঠে চেলোপাড়া।
নুতন করে আবারও ওই এলাকার চান্চল্য বাড়বে মধুবন সিনে প্লেক্স চালুর পর এটাই মনে করছে এলাকাবাসী।
কথা হলো মধুবন সিনে প্লেক্সের মালিক আর এম ইউনুসের সাথে। তিনি জানালেন হল উদ্বোধনের কথা থাকলেও স্বাস্হ বিধি মেনে চালু করা সম্ভব নয়। এতে ৩৪০ আসনের তিন ভাগের এক ভাগ আসন থাকবে। এসির বিলই হবে না। লোকসান গুনে হল চালানো সম্ভব নয়। ৫ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত হলে দর্শকের সাড়া পড়বে বলে তিনি আশাবাদী। সে ক্ষেত্রে পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখা যাবে এমন ছবি বাছাই করে ছবি চালাবেন। পরিবার নিয়ে ছবি দেখার মত ভালো ছবির অভাবেই মানুষ হল বিমুখী হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। ভালো ছবি এবং হলের পরিবেশ সৃষ্টি করলে দর্শক আবারও হলে আসবে এই বিশ্বাসই আমাকে অনুপ্রানিত করেছে।
মধুবন সিনেমা হল ও চেলোপাড়ার ইতিকথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাবা ১৯৬৯ সালে হলটি শুরু করেন। তারপর স্বাধীনতা যুদ্ধের কারনে কাজ থেমে যায়। এক হাজার আসন বিশিষ্ট হলটি ১৯৭৪ সালের ১০ অক্টোবর ঈদের দিন ডাকু মুনসুর ছবির মধ্যদিয়ে হলটির যাত্রা শুরু হয়। সিনেমা হল চালুর পর চেলোপাড়া এলাকায় চান্চল্য শুরু হয়। ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক এলাকা হিসেবে উন্নয়নের শুভ সূচনা হয়। তিনি বলেন, ১৯৬৬ সালে তার বাবা চেলোপাড়ায় বিদ্যুত সংযোগে ভুমিকা রাখে। ওই সময় থেকে চেলোপাড়ার গুরুত্ব বাড়তে থাকে। হল শুরুর পর ৯০ দশকে অশ্লীল ছবির কারনে হল বন্দ করা হয়। ২০০৪ সালে স্টাফরা নিজেরাই হল চালায়। পরে আবার ২০১৩- ২০১৪ সালে চালু করা হয়। মাঝ খানে বন্দ থাকে। পরে চালুর পর ঢাকা এ্যাটাক ছবিই ছিল শেষ ছবি। ২০১৮ সালে বন্দ করে মধুবন সিনে প্লেক্স করার চিন্তা নিয়ে কাজ শুরু করেন বলে তিনি জানান।
আর এম ইউনুস জানান, ৫ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত হলে বেলজিয়াম থেকে মেশিন, আমেরিকা থেকে সাউন্ড সিস্টেম, বোম্বে থেকে গ্যালালাইট মেটাল কোডেট পর্দা আনা হয়েছে। হলের নীচে বিশাল পরিসরে থাকবে আধুনিক ফুড কর্নার।
হল মালিক আর এম ইউনুস বলেন, করোনার কারনে হলের কাজ ধীর গতিতে করেছি। আগামী ডিসেম্বরে ভালো দিনক্ষন দেখে ৩৪০ আসন বিশিষ্ট মধুবন সিনে প্লেক্সের শুভ উদ্বোধন করবো।