ডেস্ক : নব-নিযুক্ত সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ দেশের ১৭তম সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে তাকে জেনারেল র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেওয়া হয়। নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় জেনারেল শফিউদ্দিনকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্য দিয়ে সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব শুরু করেন জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ। আগামী তিন বছর সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে থাকবেন তিনি।
নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ শাহীন ইকবাল এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান সেনা বাহিনীর নতুন প্রধানকে এ র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এমএম ইমরুল কায়েস জানান, র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরানোর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নব-নিযুক্ত সেনা প্রধানকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং তার সফলতা কামনা করেন।
নতুন সেনা প্রধানও প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব:) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লে. জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স’র (এসএসএফ) মহাপরিচারক মেজর জেনারেল মো. মজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
নতুন সেনা প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ সদ্য বিদায়ী সেনা প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হলেন।
১০ জুন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদকে জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে ২৪ জুন থেকে পরবর্তী তিন বছরের জন্য সেনা প্রধানের দায়িত্ব দেয়া হয়। এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ এর আগে সেনা সদরের কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিএ-২৪৯৬ লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, ওএসপি, এনডিইউ, পিএসসি, কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল-কে ২৪ জুন ২০২১ তারিখ অপরাহ্ন থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে জেনারেল পদে পদোন্নতি প্রদানপূর্বক প্রতিরক্ষা-বাহিনীসমূহের প্রধানদের (নিয়োগ, বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা) আইন, ২০১৮ অনুসারে উক্ত তারিখ অপরাহ্ন থেকে তিন বছরের জন্য সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হলো।’

জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হলেন। জেনারেল আজিজ আহমেদ বৃহস্পতিবারই অবসরে গেছেন।

জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ১৯৬৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর খুলনা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৮৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর নবম দীর্ঘমেয়াদী কোর্সের সঙ্গে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কমিশন লাভ করেন। তিনি সামরিক কর্মজীবনে স্টাফ, প্রশিক্ষক এবং কমান্ড নিযুক্তিতে কর্মরত ছিলেন।

জেনারেল শফিউদ্দিন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি পদাতিক ব্যাটালিয়ন, একটি পদাতিক ব্রিগেড ও একটি পদাতিক ডিভিশনসহ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী অপারেশনে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে মাল্টিন্যাশনাল ফোর্স কমান্ডার হিসেবে প্রথম বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন কমান্ডের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন অফিসার। কমিশন পরবর্তী Counterinsurgency অপারেশন এলাকায় যোগদানপূর্বক তিনি তার সামরিক কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে Counterinsurgency অপারেশন এলাকার পদাতিক ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হিসেবেও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বিভিন্ন ফরমেশন সদর দপ্তরে সিনিয়র অপারেশনাল ও প্রশাসনিক স্টাফ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনসহ প্রশিক্ষক হিসেবে ক্যাডেট কলেজ ও বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে দায়িত্ব পালন করেন। সদর দপ্তর আর্টডকের চিফ অব ডকট্রিন ডিভিশন এবং সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে সামরিক প্রশিক্ষণ পরিদপ্তরের পরিচালক হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

২০১২ সালের ৭ মে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করে ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। সফলতার সঙ্গে ডিভিশন কমান্ড শেষে তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজে ডিজি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন জাতিসংঘ সদর দপ্তর কর্তৃক মিনুস্কাতে ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার হিসেবে নিযুক্তি লাভ করেন।

জেনারেল শফিউদ্দিন বর্তমান পদবিতে পদোন্নতি লাভের আগে এনডিসির এসডিএস (আর্মি-১) এবং লজিস্টিকস এরিয়ার জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি গত ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট জিওসি হিসেবে আর্টডকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

জেনারেল শফিউদ্দিন দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। তিনি চীনের ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটিতে (এনডিইউ) আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়াম কোর্সে অংশগ্রহণ করেন। ২০১০ সালে তিনি সফলতার সঙ্গে ডিফেন্স অ্যান্ড স্ট্রেটেজিক স্টাডিজ কোর্স, এনডিইউ, চায়না সম্পন্ন করেন। তিনি বাংলাদেশ ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।