েনাতুন খবর.কম : বগুড়ার কাহালু থানার সাবেক ওসি নূর এ আলম সিদ্দিকীসহ দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অপর কর্মকর্তা হলেন মামলা তদন্ত কর্মকর্তা এসআই দুলাল ইসলাম।
কাহালু থানার মুরইল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামকে গ্রেফতারের হুমকি দিয়ে মামলা করতে বাধ্য করার অপরাধে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন এ রায় প্রদান করেছেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারী আদালত এ রায় ঘোষনা করেন এবং গত ১১ মার্চ রায় প্রকাশিত হয়। রায়ে একইসাথে ওই মামলার মোট ১০জন আসামীর সবাইকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।
মামলার বাদী প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, স্কুলের নবম শ্রেনীর একজন ছাত্রীর অভিযোগ তদন্তে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মকবুল হোসেন ২০১৬সালের ২৯ ডিসম্বের বিকেল ৪টার পর মুরইল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে আসেন। তিনি অফিস রুমে তদন্ত করতে চাইলে ছাত্র ছাত্রীরা মাঠের মধ্যে তদন্তের দাবী করেন। এতে শিক্ষা অফিসার রাজী না হলে ছাত্রছাত্রীরা প্রধান শিক্ষকের রুম লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষা অফিসার চলে যান। ওই দিন রাত ৯টার দিকে কাহালু থানার তৎকালীন ওসি নূর এ আলম সিদ্দিকী থানায় ডেকে নিয়ে একটি অভিযোগপতে স্বাক্ষর করতে বলেন। আমি তাতে অস্বীকার করলে গ্রেফতারের হুমকি দেন তিনি। কারন অভিযোগে মুরইল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯জন শিক্ষক ও কর্মচারীকে আসামীকরা হয়েছে। পরে আমি স্বাক্ষর করেছি।
রায়ে বলা হয়েছে, এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই দুলাল ইসলাম আসামীদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছেন। আদালত আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় সম্পূর্ণ নির্দোস হিসেবে খালাস প্রদান করেন এবং ওসি নূর এ আলম সিদ্দিকী ও তদন্ত কর্মকর্তা এস আই দুলাল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য রায়ের অনুলিপি স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, রাজশাহী রেন্জের ডিআইজি ও বগুড়া জেলার এসপির নিকট পাঠানো হয়। আসামী পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবি আল মাহমুদ ও রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন এপিপি বিথীকা অধিকারী।