ডেস্ক :
ভারতে দুজন দলিত নারী সংঘবদ্ধ যৌন নির্যাতনে আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এ দুটি ঘটনায় আবার প্রকম্পিত ভারত। দেশটিতে বাড়ছে বিক্ষোভের ঘটনা।

সম্প্রতি ২২ বছর বয়সী এক দলিত নারীকে একটি গণপরিবহন থেকে তুলে নিয়ে যায় দুষ্কৃতিকারীরা এবং তাকে অবর্ণনীয় নির্যাতন করে। এক পর্যায়ে তার মৃত্যু হয় বলে দাবি করেছেন নির্যাতিতে মা। ওই নারী স্থানীয় এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন।

চলতি সপ্তাহে আরো একজন ১৯ বছর বয়সী দলিত নারী উচ্চ-বর্ণের হিন্দুদের সংঘবদ্ধ যৌন নির্যাতনের ফলে মারা যান। তার মৃতদেহ পরিবারের অমতে দাহ করা হয়। যা নিয়েও চলছে বিক্ষোভ।

হিন্দু ধর্মের বর্ণ-প্রথায় দলিতরা সবচেয়ে নিচু শ্রেণির হিন্দু বলে অভিহিত হন। তাদেরকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য দেশটিতে আইন থাকলেও প্রতিবছর অসংখ্য দলিত নারী-পুরুষ নানা রকম নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যান।

সাম্প্রতিক দুটি ঘটনাই ঘটেছে ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য উত্তর প্রদেশে। ঘটনা দুটির প্রতিকারে এই প্রদেশেই প্রথম বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। লোকজন রাস্তায় নেমে এসে বিক্ষোভ দেখান। সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে বালারামপুর জেলায়। এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ এরই মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ছাড়া যৌন নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় মামলাও করা হয়েছে।

প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে হাথরাস জেলায়, যা বালারামপুর থেকে ৩১০ মাইল দূরে অবস্থিত। প্রথম ঘটনার শিকার নারী অত্যন্ত মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিলেন এবং তিনি দুই সপ্তাহ দিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মৃত্যুবরণ করেন।

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার। কিন্তু প্রথমে তা জাতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোর দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার পর তা সংবাদ মাধ্যমের দৃষ্টি কাড়ে এবং দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

কথিত উচ্চ-বর্ণের হিন্দুদের কাছে নিম্ন বর্ণের দলিতদের নির্যাতনের ঘটনা নতুন নয়। প্রায় প্রতি বছরই এ রকম ঘটনায় ভারতজুড়ে বিক্ষোভ হয়। দলিতরা কয়েক প্রজন্ম ধরে উচ্চ-বর্ণের হিন্দুদের নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছে।

কী ধরনের বিক্ষোভ হচ্ছে?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্বিতীয় ঘটনাটির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অসংখ্য মানুষ বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব, বর্তমানে তিনি বিরোধী দলে আছেন, টুইটারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

টুইটারে তিনি বলেন, “হাথরাসের পর আরো একজন ভারতীয় মেয়ে বলারামপুরে যৌন নির্যাতন ও পাশবিকতার শিকার হলো।” একই সাথে তিনি সরকারকে এই ঘটনার প্রতিকারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানান।

ঘটনার সমালোচনা করে টুইটারে বহু মানুষ মত প্রকাশ করেন। এটি টুইটারের সর্বোচ্চ আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়। সাধারণ ভারতীয়দের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতারও টুইটারকে বেছে নেন তাদের ক্ষোভ প্রকাশের জন্য।

এ দিকে হাথরাসের ঘটনার পর বিরোধী দল কংগ্রেস পার্টির নেতা প্রিয়াঙ্কা ও রাহুল গান্ধি নির্যাতিতের বাড়িতে যান। যদিও পথে তাদের গাড়ি আটক দেওয়া হয়।

হাথরাসে এরই মধ্যে ১৪৪ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। এর মানে হলো কোথাও চার জনের বেশি লোক জমায়েত হতে পারবেন না। ভারতে কোনো বিক্ষোভ ঠেকানোর জন্য প্রায়ই এই আইন প্রয়োগ করা হয়।

হাথরাসে নির্যাতিতকে তার পরিবারের অমতে দাহ করা হয়। এ ঘটনায় অঞ্চলটিতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। হাজার হাজার লোক পুলিশ ও সরকারের নিন্দা জানিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। দিল্লিতেও এ ঘটনায় বেশ কিছু বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে।