উজ্জ্বল চক্র বর্ত্তী শিশির দুপচাঁচিয়া থেকেঃ
দুপচাঁচিয়া অঞ্চলের আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলন এবং দাম বেশি থাকায় বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার কৃষকেরা বেশ আনন্দিত ও বুক ভরা স্বপ্ন বাস্ত ব্যায়িত হয়। আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হলেও এই এলাকায় কৃষকেরা জমিতে আর ২০/২৫দিন সময় নিয়ে ধান কাটা শেষ করে ঘরে ফিরবেন বলে জানায় ।বিশেষ করে দীর্ঘদিন আবহাওয়া কৃষকের অনুকুলে না থাকার কারনে সৃষ্টিকর্তা এইবার কুষকের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন ,ধানের দাম বেশি হওয়ায় অধিকাংশ কৃষকেরা চাষাবাদের দিকে ঝুকছে ।উপজেলার ৬ টি ইউনিয়ন ঘুরে এবং কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় ,হেমন্ত থেকে শীতের মাঝামাঝি বা অগ্রাহায়ন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ হইতে রোপা আমন ধান কাটা শুরু হয়্ আর্শ্বিন ও কার্ত্তিক এদুই মাস প্রান্তিক কৃষকেরা প্রচন্ড অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে জীবন জিবীকা অতিবাহিত করেন। বর্তমানে নতুন আগাম জাতের বীজ ধান বাজারে আসায় প্রান্তিক কৃষকেরা সেই ধান আবাদি করে বেশী ফলন পাচ্ছেন ।কিছু আগাম জাতের ধানের নমূনা বিনা-৭,১৭,ব্রি ধান-৪৯,৭১,৭৫,৯০ এই ধরনের আগাম জাতের ধান বিক্রি করে কৃষকেরা অনেকটাই অর্থ সঙ্কট থেকে রেহাই পান।দুপচাঁচিয়া উপজেলা ১১ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয় ।কিন্তু লক্ষমাত্রার চেয়ে ৮ শত হেক্টর বেশী জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে ।অর্জিত ১১ হাজার ৫শত হেক্টর জমিতে উফশি এবং ৩ শত হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ধানের চাষ করা হয়েছে। নতুন কিছু জাতের ধান বেশী প্রাধান্য দেন এ অঞ্চলের প্রান্তিক কৃষকেরা ,যে গুলোর মধ্যে বিনা-৭,ব্রি-৪৯,৫০,রনজিৎ ,স্বর্না,মামুন,কাটারী ভোগ ,আতপ জাতের ধান ।পরবর্তী ঐ জমি গুলোতে আলু ও সরিষা চাষের জন্য অর্থ যোগান দেন বলে জানায়।উপজেলা কামারগা ও ছাতাগাড়ী এলাকায় কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন কৃষি অফিসের পরামর্শে আগাম জাতের ব্রি-ধান-৯০ চাষ করছি।এবার রোপা আমন ধানের ফলন ও দাম দুই দিক থেকে ভাল পেয়েছি ।এছাড়াও উপজেলার চামরুল ইউনিয়নের হরিনগাড়ী গ্রামের কৃষক মোঃ মুকুল হোসেন বলেন দীর্ঘ পরিশ্রম করায় আল্লাহ রহমতে জমিতে বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমান পেক্ষাপতে বীজ থেকে শুরু করে কীটনাশক ঔষুধ সহ বিভিন্ন জিনিষের দাম বেশী,তারপর এবার ধানের দাম বেশি পাওয়ায় আমরা খুশি।এমন থাকলে বিগত বছরের ক্ষতি কিছুটা পূরন করতে পারবো।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ সাজেদুল আলমের সংগে কথা বলে জানা যায় কৃষকেরা বিগত বছরে ভালো ফসল আবাদ করতে প্রাকৃতির কারণে লাভবান হয়নি। এবার দুপচাঁচিয়া উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে আবহাওয়া ভালো ও কৃষকদের অনুকূলে থাকায় আগাম জাতের ধান চাষে আগ্রহী হয়েছে এ অঞ্চলের কৃষক । বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী বলেছেন কোন জমি যেন অনাবাদী না থাকে। সব জমিতে চাষ করতে হবে,আমাদের দেশ খাদ্যের সয়ংসংপূর্ন দেশ হিসাবে বিদেশে কাছে তুলে ধরতে হবে। এবার এই উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রায় চেয়ে জমি গুলোতে বেশি আমন চাষ হয়েছে, প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না ঘটলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে এই কৃষি কর্মকর্তা মনে করেন।