দুপচাঁচিয়া থেকে উজ্জ্বল চক্রবর্ত্তী (শিশির) ঃ
বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় খোলাশ গ্রামের কুটির শিল্প ধ্বংসের মুখে ১৫০ টি পরিবার। বেকার হয়ে পড়েছে কুটির শিল্পে কর্মরত প্রায় ১৫০০ শ্রমিক। গত মার্চ মাস থেকে মহামারী করোনা ভাইরাস রোগ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পরে। ফলে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস রোগের তীব্রতা বিশাল আকার ধারন করলে অধিকাংশ মিল, কল-কারখানা, ছোট ছোট কুটির শিল্পের কাজ থেমে যায়। মার্চ মাস হতে এ পর্যন্ত ধর্মীয় উৎসব ও বিভিন্ন এলাকায় মেলা না হওয়ায় কুটির শিল্প তৈরীর শ্রমিকদের খুব কষ্টে জীবন যাপন করছে বলে জানায়। সরকারি সাহায্য ও অনুদান অনেক পরিবারের কাছে পৌঁছেনি। সরেজমীনে গিয়ে দেখা যায় মের্সাস রিয়া ট্রের্ডাস, মের্সাস খেলনা প্লাস্টিক ঘর, মের্সাস সজীব খেলনা ঘর করোনা ভাইরাস এর কারনে প্রায় ৭/৮ মাস যাবৎ তাদের কারখানার উৎপাদিত পন্য সমূহ: কাঠের তৈরি টমটম গাড়ী, বাঁশের-বাঁশী, পঞ্জের-পাখি,কাঁচের তৈরি রকেট,চরকী ,বেলুন, ফুল,ইত্যাদি খেলনা পন্য বাজার জাত করতে না পারায় ক্ষতির সম্মুক্ষীন হতে হয়েছে।
এসব পন্য সামগ্রী “মেলায়” বেশী বিক্রয় হয়, করোনা ভাইরাসের কারণে মেলা না হওয়ায় লক্ষ লক্ষ টাকার মালামাল ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। কুটির শিল্পের শ্রমিক সান্তনা বেগম, শিল্পী বেগম,হারেজউদ্দিন,আফছার আলী জানান প্রায় ,দীর্ঘদিন যাবৎ আমাদের কোন কাজ কর্ম নেই।কারন কুটির শিল্পের মালিকদের পন্য বাজারে বিক্রয় না হলে আমাদেরকে কিভাবে বেতন দিয়ে রাখবে।
আমাদের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে সংসার চালানো খুব কষ্টদায়ক, এর কারন হলো দুপচাঁচিয়া এইসব কুটির শিল্পের বিভিন্ন খেলনা পন্য সামগ্রী দেশের বিভিন্ন জেলার কিছু অঞ্চলে মেলায় বা ধর্মীয় উৎসবে খেলনাগুলো বিক্রয় হয়।্ আমি সজীব খেলনা ঘরের মালিকের সংগে কথা বলে জানতে পারি তিনি বলেন আমার কারখানায় ৩০ জন শ্রমিক কাজ করে এই অবস্থায় তাদেরকে বেতন দিয়ে আমি কিভাবে চালাবো ও শ্রমিকরা কিভাবে পরিবার নিয়ে সংসার চালাবে।সরকার আমাদেরকে ক্ষুদ্র ঋনের ব্যবস্থা করে দিলে এই ১৫০টি পরিবার ও কুটির শিল্পের শ্রমিক সহ মোটামুটি ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে পারবে।এরপর মের্সাস রিয়া ট্রেডার্সের মালিক মোঃ বেলাল হোসেন বলেন আমার কারখানায় ১৫ জন শ্রমিক কাজ করে এই কারখানার প্রায় মহিলারা বিভিন্ন এন.জি,ও হতে ঋন গ্রহন করেছে, কাজ করলে সাপ্তাহিক ঋনের কিস্তির টাকা দিতে পারে।সরকার এন.জি.ও কর্মকতার্ দেরকে বলে দিয়েছে কোন সদস্যের কিস্তি চাপ দিয়ে নেওয়া যাবেনা কিন্তু দেশের মহামারী করোনা ভাইরাস এখনও মুক্ত হয় নাই,তাই ঋনের বোঝা আমরা কতদিন বয়ে বেড়াবো সরকার আমাদেরকে একটু সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিলে মোটামুটি ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে পারবে বলে জানিয়েছেন।এছাড়াও হিন্দু(শনাতন) ধর্মের শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন এলাকায় মেলা হতো সেটাও করোনা রোগের কারনে বন্ধ হয়ে গেছে।