বগুড়ার ধুনট উপজেলায় একই পরিবারের ৫জন সদস্য রহস্যজনক ভাবে অচেতন হয়েছে। এ ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের ভ‚তবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। অচেতন ব্যক্তিরা হলেন ভ‚তবাড়ী গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে কৃষক বদিউজ্জামান, তাঁর স্ত্রী ফুলেরা খাতুন, পুত্র রাসেল মিয়া, পুত্রবধূ রেখা খাতুন ও নাতনী ৪ মাসের শিশু রুবাইয়া খাতুন। স্থানীয় ভাবে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টায় বদিউজ্জামানের স্ত্রী ফুলেরা খাতুনকে বাড়ির আঙ্গিনায় অসুস্থ্য অবস্থায় দেখতে পায় গৃহবধু রেশমী আকতার। রেশমী আকতার বদিউজ্জামানের ভাই নবুল হোসেনের স্ত্রী। অসুস্থ্য ফুলেরা খাতুনকে দেখে এগিয়ে এসে ফুলেরা খাতুনকে ধরে শয়ন ঘরের বিছানায় পৌছে দেন। এসময় একই বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা বদিউজ্জামানকে ডেকে ঘুম ভাঙ্গাতে পারেনি রেশমী আকতার। বিষয়টি জানাতে পাশের ঘরে থাকা বদিউজ্জামানের ছেলে রাসেলকেও ডাকেন তিনি। কিন্তু সে ঘর থেকেও কোন সারা মেলেনি। পরে স্বজন ও স্থানীয় লোকজনকে ডেকে আনেন রেশমী আকতার। এসময় তারা বদিউজ্জামানের ঘরের এক পাশে সিঁধ কাটার ঘটনা দেখতে পান। কিন্তু তাদের ডাকে বদিউজ্জামানের পরিবারের কোন সারা না মেলায় বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হয়। অন্যদিকে সকাল ১১টায় অচেতন বদিউজ্জামান, ফুলেরা খাতুন, রাসেল মিয়া, রেখা খাতুন ও শিশু রুবাইয়া খাতুনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গৃহবধু রেশমী আকতার বলেন, সকাল সাড়ে ৬টায় ছেলেকে স্কুলের পথে এগিয়ে দিয়ে ফিরছিলাম। ফেরার পথে ফুলেরা ভাবীকে বাড়ির আঙ্গিনায় ঢলতে দেখে এগিয়ে যায়। এসময় তাকে অসুস্থ্য দেখে ঘরে পৌছে দেই। এরপর পরিবারের অন্যদের ডাকতে গিয়ে দেখি সবাই অচেতন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই পরিবারের সদস্যদের অচেতন হওয়ার কারন বুঝতে পারছি না।
ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অচেতন ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের জ্ঞান ফিরলে অচেতন হওয়ার রহস্য উম্মোচন করা সম্ভব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বদিউজ্জামানের শয়ণ কক্ষের পাশে সিঁধ খোড়া হয়েছে। তবে তার ঘরে কোন চুরি হয়নি। আবার পাশের কক্ষে বদ্ধ ঘরে স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে বদিউজ্জামানের ছেলেও অচেতন ছিলো। পুরো বিষয়টি রহস্যজনক।