সুদর্শন কর্মকার ঃ নওগাঁর রাণীনগরে জমির মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায় আর দিন দিন কমে যাচ্ছে কৃষিজমির পরিমাণ। উপজেলার ১০টি ইট ভাটার মালিকরা ফসলি জমি থেকে অবাদে মাটি কেটে ইট তৈরির কাজে ব্যবহার করছেন। কৃষকদের অর্থেও লোভ দেখিয়ে কৃষি জমির টপ সয়েলগুলো কেটে ব্যবহার করছেন ইট ভাটায়। ফলে তিন ফসলের কৃষি জমিগুলো পুকুর ও জলাশয়ে পরিণত করা হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য আর কমছে উৎপাদনের হার।
উপজেলা কৃষি অফিস স‚ত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে প্রায় সাড়ে ২১হাজার হেক্টর কৃষি জমি রয়েছে। শ্রেণী ভেদে প্রায় সকল জমিতেই সারা বছর কোন না কোন ফসল চাষ করা হয়। ধান চাষে লাগাতার লোকশান হওয়ার কারণে কৃষকরা ভাটার মালিকদের দ্বিগুন অর্থের লোভে প্রতি গাড়ি (ট্রাক্টর) মাটি ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকায় বিক্রয় করায় এক ফিট গর্ত করে প্রতি বিঘায় প্রায় ১৮হাজার টাকার মাটি বিক্রয় করছে কৃষকরা। ফলে নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে কৃষি জমি থেকে মাটি খনন করায় দিনদিন কমে যাচ্ছে ফসলি জমির পরিমাণ। প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ২শতাধিক ট্রাক্টর, মিনি ট্রাক মাটি কেটে ভাটায় পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে যাচ্ছে। উপজেলার কাশিমপুর, মিরাট, ধনপাড়া, রামরায়পুর, মন্ডলেরপুল, খট্টেশ্বর হাদিপাড়া এলাকায় কৃষি জমি থেকে অবাদে মাটি কেটে ইট ভাটার মালিকরা ইট তৈরির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রায় ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হলেও শুধু ইট ভাটায় কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রয় করার কারণে লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে প্রায় ৪শ’ হেক্টর জমিতে ইরি ধান চাষ কম হবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহিদুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে জমির মাটি ইট ভাটায় বিক্রির প্রবণতা। মাটি কেটে জমি নিচু করার ফলে ফসলী জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়। উর্বর শক্তি কমে যাওয়ার ফলে এই জমিতে আশানুরুপ ফলন হবে না। কৃষকরা না বুঝে অর্থের লোভে জমিগুলোর স্থায়ী ক্ষতি করছেন। পরবর্তিতে এই জমিগুলোতে ফসলের ফলন কম হওয়ার কারণে কৃষকরা ফসল চাষে আগ্রহ কমে যাচ্ছে। তাই দ্রæত এই মাটি বিক্রির কার্যক্রম বন্ধ করতে না পারলে আশঙ্কা জনক হারে ক্ষতির সম্মুখীন হবে দেশের কৃষি সেক্টর।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আল-মামুন বলেন, এই বিষয়ে লিখিত ভাবে অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।