ডেস্ক : ফিনল্যান্ডের উত্তর হেলসিঙ্কির পীরকালা অঞ্চলের ছোট্ট শিশু সানা মারিন। মাদক ও দারিদ্রতার নিষ্ঠুর ছোবলে তার বাবা-মার বিচ্ছেদ হয়ে যায়। তখন শিশুটির মা তাকে ওই অঞ্চলের একটি সমকামী পরিবারের নিকট দত্তক দিয়ে দেন। সেখানেই বেড়ে ওঠেন বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে কনিষ্ঠতম নারী প্রধানমন্ত্রী সানা মারিন।
গত ৮ ডিসেম্বর দেশটিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয় লাভ করে বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী প্রধানমন্ত্রী হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন ৩৪ বছরের এই নারী। এর আগে ২০১৫ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রথমবারের মত সংসদে আসেন সানা মারিন। তখন ফিনল্যান্ডের পরিবহনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এত অল্প বয়সে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথটা খুব একটা সুখকর ছিল না সানা মারিনের। সমকামী পরিবারটির নিকট থাকাকালীন রুটি-রুজির অর্থ উপার্জনের জন্য স্কুলজীবনে পত্রিকা বিক্রি শুরু করেন তিনি। এক সময় তা দিয়েও হচ্ছিল না। তখন মাত্র ১৫ বছর বয়সে একটি বেকারিতে চাকরি নেন তিনি।পরবর্তীতে স্নাতক শেষ করে একটি প্রতিষ্ঠানে ক্যাশিয়ার পদে যোগ দেন সানা। এ বিষয়ে বিশ্বের কনিষ্ঠতম এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফিনল্যান্ডে জন্ম নিয়েছি বলেই আজ আমি প্রধানমন্ত্রী হয়েছি। এ জন্য আমি অত্যন্ত গর্বিত।’

‘একজন দরিদ্র পরিবারের শিশু নিজেকে শিক্ষিত করতে পারে এবং তার জীবনের লক্ষ্য অর্জন করতে পারে। এমনকি একজন ক্যাশিয়ারও দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারে।’ এভাবেই নিজের দরিদ্র জীবনের কথা গর্বের সঙ্গে স্বীকার করেছেন সানা মারিন।

নিজের বয়স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি আমার বয়স বা লিঙ্গ সম্পর্কে কখনো ভাবিনি। রাজনীতিতে যে কারণে এসেছি, শুধুমাত্র সে বিষয়গুলোর কথাই চিন্তা করি। আর এ জন্যই আস্থা ভোটের মাধ্যমে ভোটাররা আমাকে নির্বাচিত করেছেন।’
এদিকে ক্যাশিয়ার হিসেবে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করায় তাকে নিয়ে বিদ্রুপ করেছেন এস্তোনিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সানা মারিনকে ‘সেলস গার্ল বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একজন সেলস গার্ল দেশ পরিচালনা করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে আমার সংশয় রয়েছে।’ অবশ্য পরবর্তীতে এমন বিব্রতকর মন্তব্যের জন্য ফিনল্যান্ডের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছে এস্তোনিয়া সরকার।

এর আগে ৫৫ লাখ মানুষের দেশ ফিনল্যান্ডের রাজনৈতিক দল সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী অ্যান্তি রিনে পদত্যাগ করেন। তখন দলটির প্রধান হিসেবে তার নাম প্রস্তাব করা হয়। এরপরই ভোটাভুটির মাধ্যমে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন সানা। বর্তমানে তিনি ফিনল্যান্ডের ক্ষমতাসীন পাঁচ দলীয় জোট সরকারের প্রধান।