নোতুন খবর.কম : প্রকাশিত রাজাকার ও স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকায় বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি ও মুক্তিযোদ্ধাদের নাম প্রকাশিত হয়েছে। এনিয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামীলীগ নেতাদের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামীলীগ নেতারা এর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দেয়ার দাবী জানিয়েছেন। আর মুক্তিযোদ্ধারা মনে করছেন উদ্দেশ্য প্রনদিত ভাবে রাজাকারের তালিকা করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয় থেকে বিজয় দিবস উপলক্ষে গত রোববার তাদের ওয়েব সাইডে ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকার, আলবদর, আল-সামস ও স্বাধীনতা বিরোধীদের নামের তালিকা প্রকাশ করেছে। ওই তালিকায় প্রথম পর্বে আদমদীঘি উপজেলার ৩০ জনের নাম রয়েছে। এরমধ্যে আওয়ামীলীগ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নামও রয়েছে। সোমবার দুপুরে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা সভায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম খান রাজু, সহ সভাপতি আবু রেজা খান, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল হামিদসহ নেতৃবৃন্দ রাজাকারের নামের তালিকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামীলীগ নেতাদের নাম থাকায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দেয়ার জন্য দাবী জানান।

তালিকায় ১৮ নম্বরে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক এমপি কছিম উদ্ধীন আহম্মেদ। কছিম উদ্দিন ইন্তেকালের পর তার স্ত্রী এখনও ভাতা উত্তোলন করেন। ১৯ নম্বরে আওয়ামীলীগের সাবেক এম,এন,এ মজিবর রহমান (আক্কেলপুর), ৪ নম্বরে মুক্তিযুদ্ধকালিন কমান্ডার মনছুর আলী, ৯ নম্বরে আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি তাহের উদ্দীন সরদার, ১৬ নম্বরে সাবেক রেলওয়ে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা জাহান আলী, ৩ নম্বরে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আমিরুল ইসলাম, ৭ নম্বরে আওয়ামীলীগ নেতা ফয়েজ উদ্দীন আহম্মেদ এর নাম।

আদমদীঘি থানা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল হামিদ জানান, আমরা তালিকায় দেখেছি। দেখে হতবাক হয়েছি। এটা উদ্দেশ্য প্রনদিত ভাবে রাজাকারের তালিকা করা হয়েছে। যারা আওয়ামীলীগের সংগঠক এব যুদ্ধকালিন কমান্ডার তাদের নাম কি ভাবে রাজাকরের তালিকায় এসেছে তা দেখে তিনি বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন। আদমদীঘির যুদ্ধকালিন ডেপুটি কমান্ডার হাফিজার রহমান জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের বা মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তাকারিদের রাজাকার বানানো হলো তার বিচার করতে হবে। এ তালিকা সঠিক নয়।