দুপচাঁচিয়া থেকে উজ্জ্বলচক্রবর্ত্তী শিশিরঃ
শরৎকালে শীতের কুয়াশাতে শারদীয় দূর্গাপূজা হিন্দু (সনাতন) ধর্মের বড় উৎসব। এই উৎসবকে ঘিরে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা, থানা ও ইউনিয়নে দূর্গা পূজা শুরু হয়। কিন্তু এমন সময় প্রতিমা বানানোর শিল্পীরা সহ অন্যান্য মৃৎশিল্পের কারিগররা খুব কষ্টে জীবন যাপন করছে।
তেমন একজন প্রতিমা বানানোর কারিগর শ্রী প্রদীপ চন্দ্র সরকার জানায় “গত বৎসরে আমি ৮টি প্রতিমা বানিয়েছি, এইবার জীবন বাঁচার তাগিদে মাত্র ৩টি প্রতিমা বানানোর জন্য অর্ডার পেয়েছি। আমার পরিবারে ৭জন সদস্য থাকায় প্রতিমা বানিয়ে যে অর্থ পাই তা দিয়ে সংসার চালানো খুব কষ্টদায়ক। সময়ের সংগে ব্যবস্থা গ্রহন করে সরকারি সহায়তায় হিন্দু ধর্মের মানুষ বড় পূঁজা যেন নির্বিঘ্নে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে করতে পারে, তার জন্য প্রতিমা বানানোর শিল্পীদের জোর দাবী।
পূজা যত বেশি হবে কারিগরদের প্রতিমা তৈরি কাজের চাহিদা তত বেড়ে যাবে। তাঁতে করে এই কাজ করে ছেলে-মেয়েদের মুখে দুমুঠো ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে পারবে বলে জানিয়েছে। সরজমিনে দেখা যায় একদিকে করোনা রোগের আক্রমন আর প্রাকৃতিক ভাবে প্রবল বৃষ্টিপাত এই দুয়ের সমন্বয়ে হিন্দু (সনাতন) ধর্মের শারদীয় দূর্গা পূজা অনেকাংশে কম বা থমকে গিয়েছে। সেই জন্য প্রতিমা বানানোর মৃৎশিল্পের কারিগরদের অর্ডার নেই বললে চলে।

শ্রী দিলীপ চন্দ্র এর সংগে কথা বলে জানিতে পারি, যে তিনি জেলার বিভিন্ন থানায় প্রতিমা তৈরি করতেন এইবার শুধু ৩ টা প্রতিমার অর্ডার পেয়েছেন। এই প্রতিমা তৈরির অর্থ উপার্জন দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। সরকার মৃৎশিল্প-কারিগরদেরকে একটু সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলে তারা দুমুঠো ডাল, ভাত খেয়ে বেঁচে থাকবে বলে বিশিষ্ট জনেরা মনে করেন।