সাব্বির হাসান, গাবতলী (বগুড়া) প্রতিনিধি ঃ বগুড়া গাবতলীর দুর্গাহাটা ইউনিয়নে ছেলে ধরা গুজবে ৪জন ছিনতাইকারীকে গণপিটুনি ও পিকআপ ভ্যানে আগুন ও জনতা কর্তৃক সরকারী কাজে বাঁধাপ্রদানের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
দায়েরকৃত এই মামলায় গ্রেফতার আতংক বিরাজ করছে ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের নানা শ্রেণী পেশার সাধারণ মানুষের মাঝে।
সরেজমিনে জানা গেছে, গত ২২জুলাই বিকেলে দুর্গাহাটা ইউনিয়নের বটিয়াভাঙ্গা গ্রামের চারমাথা সড়কে ৪জন যুবক ঢাকা থেকে একটি পিকআপ ভ্যান ছিনতাই করে নিয়ে আসে। তখন স্থানীয় লোকজন ওই ৪জনকে ছেলে ধরা সন্দেহে আটক করে গণপিটুনি শুরু করে পিকআপসহ ইউনিয়ন পরিষদের সামনে নিয়ে আসে। এরপর চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মিঠু ওই ৪জন যুবককে জনতার গণপিটুনির হাত থেকে উদ্ধার করে ইউনিয়ন পরিষদ রুমে আটক করে রাখে। ছেলে ধরা গুজব ছড়িয়ে পড়লে চারিদিক থেকে উৎসুক জনতা দলে দলে এসে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ভীড় জমাতে থাকে এবং ছেলে ধরা সন্দেহে আটককৃতদের উপর আক্রমনাত্মক হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে থানা পুলিশ উশৃঙ্খল জনতা উপর লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সেইসাথে ১৩জনকে গ্রেফতার করে এবং ছেলে ধরা সন্দেহে আটককৃত ওই ৪জনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় গাবতলী থানার এসআই সুজাউদৌলা বাদী হয়ে দূর্গাহাটা ইউনিয়ন ও আশেপাশের গ্রামের ২২জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ১০০০/১২০০জনের বিরুদ্ধে গত ২৩জুলাই একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকে গ্রেফতার আতংকে রয়েছে ওই এলাকার হাজারো মানুষ। গ্রেফতার আতংকের প্রভাব পড়েছে হাট-বাজার থেকে শুরু করে চা’র স্টল পর্যন্ত। গ্রেফতার হওয়ার ভয়ে সাধারণ মানুষ হাট-বাজারে কেনাকাটা করতে আসে না। বাজারে ক্রেতা না থাকায় ক্ষুদ্র কাচামাল ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছে। চা’র স্টলেও আগের মতো আর ভীর নেই। বর্তমানে দূর্গাহাটা ইউনিয়ন বন্যা কবলিত। তারপরও রাত হলেই পুরুষ শুন্য হয় ওই এলাকা। সরেজমিনে ওই এলাকার একাধিক মানুষের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, প্রকৃত অপরাধীদের পাশাপাশি কিছু নিরপরাধ মানুষকে ওই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। যারা ওইদিন দূর্গাহাটাতেই ছিলো না অথচ তাদের নাম মামলায় রয়েছে। ঢালাওভাবে গণগ্রেফতার বন্ধের জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। এমুর্হুতে গ্রেফতার আতংক বিরাজ করেছে সাধারণ মানুষের মাঝে। এলাকাবাসীর দাবী পুলিশি অভিযানে প্রকৃত দোষীদের খুজে বের করে আইনের আওতায় আনা হোক। সাধারণ জনগন যাতে পুলিশি বা কোন ব্যক্তিগোষ্ঠির আক্রশে হয়রানীর শিকার না হয়। ঢালাওভাবে গণগ্রেফতার করলে পুলিশের উপর জনগনের আস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে বলে তারা মনে করেন। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার এসআই কান্তি কুমার মোদক স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, মোবাইলে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলেছে। গণগ্রেফতারের প্রশ্নই ওঠে না। মামলায় এ পর্যন্ত মোট ১৭জনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।