নোতুন খবর.কম : বগুড়ার খান মার্কেটসহ কয়েকটি ঔষধের দোকানের মার্কেটে অভিযান চালিয়েছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় তারা অনুমোদনহীন ও ফ্রি সেম্পলের ওষুধ বিক্রির ও দোকানে রাখার দায়ে বগুড়ার খান মার্কেটে চার ফার্মেসিকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে র‌্যাব-১২ বগুড়া স্পেশাল কোম্পানির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিছুর রহমানের নেতৃত্বে ওই অর্থন্ড প্রদান করা হয়। এদিকে আদালত চলাকালে র‌্যাবের কিছু সদস্য কোন কারন ছাড়াই আজিজ ম্যানসনের ব্যবসায়ীদের গালিগালাজ ও মারপিটের অভিযোগ এনে দোকান বন্ধ করে সাতমাথায় এসে বিক্ষোভ করেছে ঔষধ ব্যবসায়ীরা। বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের সাথে বাক বিতন্ডার এব পর্যায়ে পুলিশ এক দোকান কর্মচারীকে আটক করেছে। এগুলো বিষয় নিয়ে র‌্যাব ও বগুড়া জেলা কেমিস্টস এন্ড ড্রাগিস্টস সমিতি পৃথক পৃথক সংবাদ সম্মেলন করেছে।
জানা গেছে, দুপুরের দিকে র‌্যাব-১২ বগুড়া স্পেশাল কোম্পানির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিছুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল শহরের খান মার্কেটে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করতে যায়। এসময় আদালত অনুমোদনহীন ও ফ্রি সেম্পলের ওষুধ বিক্রির জন্য দোকানে রাখায় মডার্ন ফার্মেসি, আর কে ফার্মেসী, ফাহিম ফার্মেসি ও সেলিন ফার্মেসিকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে। এক পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্য সকল ওষুধ ব্যবসায়ীরা একের পর এক দোকান বন্ধ করে দেন। এরপর তারা শহরের সাতমাথা রাস্তায় অবস্থান নেন। এ সময় ব্যবসায়ীদেরকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশের ওপর চড়াও হয় তারা। পরে পুলিশ তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং একজনকে আটক করে।
ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা শেষে র‌্যাবের পক্ষ থেকে এক প্রেস ব্রিফিং এ র‌্যাব-১২ বগুড়ার স্পেশাল কোম্পানীর কমান্ডার মেজর এস এম মোর্শেদ হাসান বলেন, ‘ওই মার্কেটে ৪টি ফার্মেসীতে অনুমোদনহীন ও ওষুধের ফ্রি সেম্পল পাওয়া গেছে যা বিক্রির জন্য রাখা হয়েছিল। এ সময় ভ্রাম্যমান আদালত ফিজিশিয়ান স্যাম্পল ও অনুমোদনবিহীন ওষুধ রাখার অপরাধে ওই মার্কেটের ৪ টি দোকানের মোট ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এরমধ্যে আরকে মেডিসিন কর্ণারের ৫০ হাজার, ফাহি মেডিকেল স্টোরের ৩০ হাজার সেলিমা মেডিকেল স্টোরের ১০ হাজার ও মর্ডার্ণ মেডিকেল এর ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা শেষে বিকেল ৪ টায় শহরের আজিজ ম্যানসনের সামনে র‌্যাবের স্পেশ্যাল কোম্পানীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিছুর রহমান সাংবাদিকদের প্রেস ব্রিফিংএ ভ্রাম্যমান অভিযানের বিস্তারিত বর্ণনা দেন।
অপরদিকে বিকেলে বগুড়া জেলা কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতির পক্ষ থেকে তাদের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সহ সভাপতি এ.বি.এম জিয়াউল হক বাবলা বলেন, র‌্যাবের কিছু সদস্য খাঁন মার্কেট, লুৎফর ম্যানশন, নদী বাংলা ও আজীজ মেনসনে প্রবেশ করে কোন কারন ছাড়াই অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ ও মারপিট করে। অনেকেই আবার রাইফেলের বাটদিয়ে আঘাত করে। এতে স¤্রাট নামের এক কেমিস্ট গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়াও আরো ৬/৭জন কেমিস্ট হামলার শিকার হয়। তিনি সকল কেমিস্ট এর পক্ষথেকে এই ধরনের ঘটনার নিন্দা জানান ও অবিলম্বে আটককৃত কেমিস্টের মুক্তির দাবী জানান। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় কেউ বাধা দেয়নি।