নোতুন খবর.কম :
বগুড়া সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল ও শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে সঙ্কটাপন্ন রোগীদের জন্য ২০টি হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা (উচ্চ মাত্রার অক্সিজেন সরবরাহ যন্ত্র) প্রদান করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় এ ব্যবসায়ী এস আলম গ্রুপ।শনিবার (৩ জুলাই) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে চিকিৎসা সরঞ্জাম বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ টি এম নুরুজ্জামান সঞ্চয় এবং শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মোহসিনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এসময় বগুড়া জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগিবুল আহসান রিপুসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এস আলম গ্রুপের পক্ষে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের বগুড়া অঞ্চলের প্রধান আব্দুস সোবহান এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের রাজশাহী অঞ্চলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সেলিম উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

ডা. এটিএম নুরুজ্জামান বলেন, ‘সরঞ্জামগুলো সঙ্কটাপন্ন রোগীর জীবন রক্ষায় সহায়ক হবে। সরঞ্জামগুলো সংযোজন করতে প্রকৌশলীরা কাজ শুরু করেছেন। আগের দুটিসহ এখন নতুন ১০টি হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলার সংযোজন করা গেলে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের মোট সংখ্যা হবে ১২টি। এতে আইসিইউ ইউনিটটি স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে।

এর আগে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে আট শয্যার আইসিইউ ইউনিটে মাত্র দুটি ন্যাজাল ক্যানুলা ছিল। এতে রোগীদের চাহিদা অনুযায়ী উচ্চ মাত্রার অক্সিজেন সরবরাহ সম্ভব হচ্ছিল না।
মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শফিক আমিন কাজল বলেন, ফেস মাস্ক দিয়ে একজন করোনা রোগীকে প্রতি মিনিটে মাত্র পাঁচ লিটার অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব। অন্যদিকে রিব্রিদার মাস্ক দিয়ে প্রতি মিনিটে ১৫ লিটার অক্সিজেন সরবরাহ করা যায়। হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা দিয়ে একজন রোগীকে প্রতি মিনিটে ৬০ লিটার অক্সিজেন দেয়া যায়। যাদের অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯০ এর ওপর কেবল তাদের ফেস মাস্ক দিয়ে অক্সিজেন সরবরাহ করে সারিয়ে তোলা সম্ভব। যাদের অক্সিজেনের মাত্রা ৮৭ এর নিচে তাদের জন্য অবশ্যই উচ্চমাত্রার অর্থাৎ হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলার অক্সিজেন প্রয়োজন। তাছাড়া তাদের বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে।

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ জানান, নতুন করে ১০টি হাই-হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলার সংযোজন হলে হাসপাতালের মোট ২২টি শয্যায় উচ্চ মাত্রায় অক্সিজেন সরবরাহ সম্ভব হবে।