নোতুন খবর.কম : বগুড়ার ধুনটে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টা পাল্টি মামলার জের ধরে দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করলেও পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতিতে কোন সংঘর্ষ ঘটেনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে হামলা ও মামলার প্রতিবাদে সভাপতি টিআই নুরুন্নবী তারিক গ্রুপ সমাবেশের ডাক দিলে সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই খোকন, সহ-সভাপতি আসিব ইকবাল সনি গ্রুপও পাল্টা অবস্থান নেয়। পুলিশ অবস্থার প্রেক্ষিতে দুই গ্রুপের মাঝে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত রাখে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামীলীগের কয়েকজন নেতা জানান, গত ২ মার্চ সন্ধ্যায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য সেলিম রেজাকে মারপিট করে আহত করার ঘটনার জেরধরে সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলামের অফিসে হামলা করে তাকে মারপিট করে মারাত্নক ভাবে আহত করে। দুজনকেই বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এঘটনায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ইমরুল কায়েস সেলিম বাদী হয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম খান, উপজেলা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক রুবেল মাহমুদ, পৌর শ্রমিকলীগের সভাপতি ফারইজুল ইসলাম ইজুল ও যুবলীগ নেতা শাহ আলী সহ ৭জনের নাম উল্লেখ করে ধুনট থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পুলিশ শ্রমিকলীগ নেতা ফারাইজুল ইসলাম ইজুলকে গ্রেফতার করে।
এদিকে বুধবার রাতে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম খান বাদী হয়ে তার উপর হামলার অভিযোগে বগুড়া-৫ (শেরপুর) আসনের সংসদ সদস্য হাবিবর রহমানের ছেলে উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আসিফ ইকবাল সনি, ধুনট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই খোকন ও যুগ্ন সম্পাদক ভাইস চেয়ারম্যান মহসীন আলম সহ আওয়ামী লীগের ১৩ নেতাকর্মীর নামে পৃথক মামলা দায়ের করেছেন।

ঘটনার জের ধরে সভাপতি টিআই নুরুন্নবী তারিক বৃহস্পতিবার শহীদ মিনার এলাকায় প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয়। দুই গ্রুপের উত্তেজনার মূহর্তে পুলিশ সহিংসতা এড়াতে অবস্থান নেয়। বিকেলে সোনামুখী সড়ক থেকে সভাপতির নেতৃত্বে মিছিল বের হয়। পরে শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু। অন্যদিকে উপজেলার সামনে দলীয় কার্যালয়ে অপর গ্রুপ অবস্থান নিলেও তারা কোন সমাবেশ বা মিছিল করেনি। সমাবেশ মিছিল শেষ হলেও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছেই।

ধুনট থানার ওসি ইসমাইল হোসেন জানান, দুই গ্রুপের দুটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। এক গ্রুপের সেলিম রেজা বাদী হয়ে সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলামসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আর অপর গ্রুপের শরিফুল ইসলামও বাদী হয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আসিফ ইকবাল সনি ও সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই খোকন সহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান জানান, শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে দুই গ্রুপকেই সতর্ক করে দেয়া হয়েছিল। দুই গ্রুপ দুই দিকে অবস্থান নিলেও শান্তিপূর্ণ ভাবে সবই শেষ হয়েছে।