নোতুন খবর.কম :
বগুড়ায় কালোবাজারির ৩৫০ বস্তা (১৭ টন) সার উদ্ধারসহ ৫ জন সারের ডিলারকে আটক করেছে র‌্যাব-১২ সদস্যরা।
র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১২ ্টরে পক্ষথেকে জানানো হয়, র‌্যাব তার প্রতিষ্ঠালগ্ন হতেই খুন, অপহরণ, জঙ্গীদমন, ছিনতাই, চাঁদাবাজ, চুরি, অবৈধ মাদক ব্যবসা, কালোবাজারি ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করাসহ দূস্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে অপরাধ নির্মূলে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে আসছে। র‌্যাব-১২ এর সিপিএসসি, বগুড়া ক্যাম্পের আওতাধীন এলাকাগুলিতে ব্যাপকভাবে সফলতা অর্জন করেছে। গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধিসহ সার্বক্ষনিক অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব ইতিমধ্যে জনগনের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
র‌্যাব-১২, বগুড়া ক্যাম্প গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, বগুড়া জেলায় সারের চাহিদা বেশি থাকায় এক শ্রেণীর অসাধু ডিলার বেশি মুনাফার লোভে সরকারের ভর্তুকি দেওয়া সার কালোবাজারে বিক্রয় করছে এবং আদমদীঘি হতে নন্দীগ্রাম অভিমুখে ট্রাক বোঝাই কালোবাজারির ৩৫০ বস্তা সার আসছে। এই সংবাদের ভিত্তিতে বগুড়া র‌্যাব ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার লেঃ কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন, (জি), বিএন এর নেতৃত্বে র‌্যাব-১২, বগুড়া ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল বগুড়া কাহালু থানাধীন চিরতাগ্রামস্থ দুর্গাপুর হতে জামাদার বাজার গামী পাঁকা রাস্তায় অস্থায়ী চেকপোষ্ট স্থাপন করে। ২৫ জুন শুক্রবার রাত সাড়ে ৩ টায় চেকপোস্টে কালোবাজারির ৩৫০ বস্তা সারের ট্রাকটি অবশেষে র‌্যাবের নিকট আটক হয়। ট্রাকে থাকা নন্দীগ্রাম থানার সারের ডিলার কালোবাজারির মূলহোতা
নন্দীগ্রাম থানার ভাটগ্রাম এলাকার মোঃ আয়েত আলীর ছেলে মোঃ রুহুল আমিন (৩৫) এবং আদমদীঘি উপজেলার সারের ডিলার সহযোগী উপজেলার সুদিন এলাকার মৃত শওকত আলীর ছেলে মোঃ নওশাদ (৪৬), আদমদীঘি বাজার এলাকার মৃত ফজলুল হক এর ছেলে মোঃ এমদাদুল হক (৪৩), শালগ্রাম এলাকার মোঃখোরশেদ আলীর ছেলে মোঃ ফজলুল হক (৫৫) ও আদমদীঘি বাজার এলাকার মৃত নাসিউল হক এর ছেলে মোঃ এহসানুল করীম (৪৭) দেরকে ৩৫০ বস্তা সারবোঝাই একটি ট্রাক (বগুড়া-ট-১১-০৯২৩) সহ আটক করা হয়। ট্রাকটিতে টিএসপি ও এমওপির ৩৫০ বস্তা সার রয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, উদ্ধারকৃত ১৭ টন সার আদমদীঘি উপজেলার বিভিন্ন ডিলারের নামে বরাদ্দ হয়েছিল। বরাদ্দকৃত সারগুলো নন্দীগ্রামের ডিলারের নিকট সান্তাহার বিএডিসি গোডাউন হতে উত্তোলন করে বিক্রি করে দেয়। আসামীরা আদমদীঘি এলাকার কৃষকদের অধিকার হরন করে একে অপরের যোগসাজসে সিন্ডিকেট করে কৃষকের নিকট ন্যায্য মূল্যে সার বিক্রি না করে কালোবাজারে অতিরিক্ত মুনাফার লোভে সম্পূর্ন অবৈধভাবে বিক্রয় করে। যার ফলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হওয়ায় কৃষক অতিরিক্ত দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছে। আসামীদের বিরুদ্ধে এলাকার কৃষকদের অনেক অভিযোগ রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বগুড়া জেলার কাহালু থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
র‌্যাবের এ ধরনের কালোবাজারি গ্রেফতার অভিযান কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরো জোরদার করা হবে। আইন শৃংখলা বাহিনীর এ ধরনের তৎপরতা বাংলাদেশকে একটি অপরাধমুক্ত দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে পারবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।