নোতুন খবর.কম : বগুড়ায় যমুনার পানি বিপদসীমার উপড় দিয়ে প্রবাহিত হলেও ধাপে ধাপে গতকাল শুক্রবার পানি কমতে শুরু করেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বগুড়ার সোনাতলা সারিয়কান্দি ও ধুনট উপজেলার ৪৫ কিঃ মিঃ বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধে চরাঞ্চল ও বাঁধের পুর্বপাড়ের বানভাসী মানুষরা আশ্রয় নিয়েছে। বিগত প্রায় ২০ বছর আগে থেকে বাঁধে স্থায়ী বসবাসকারীরা বাঁধের পশ্চিমাংশ ও পুর্বাংশ কেটে বাড়ী-ঘর নির্মান এবং সেখানে খড়ের পলা ও টয়লেটের সেফটি ট্যাংক নির্মান করায় বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। খড়ের পলা এবং ধান মাড়াই ও ধান ঘরে রাখার কারনে ইঁদুরের স্থায়ী বসবাস শুরু হয়েছে। আর এসব কারনেই পানিবৃদ্ধির ফলে পানি চুঁইয়ে বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। এখনও বাঁধে আশ্রিত বানভাসী মানুষগুলো চরম দুর্ভোগে গবাদি পশু,হাঁস-মুরগী নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। পানি বৃদ্ধির ফলে বন্ধ রয়েছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আবার বাঁধের পশ্চিমপাড়ের স্কুলগুলো খোলা থাকলেও বন্যার কারনে শিক্ষার্থী কম আসছে।
বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধে কথা হলো, শহরাবাড়ীর আব্দুল হামিদের সাথে। ২০১৭ সালে বাঁধটি উচু আর শক্তিশালী না করলে এবারে এ বাঁধটি রক্ষা করা সম্ভব হতোনা।
ধুনটের গোসাইবাড়ী এ এ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন বাবলু জানান, বন্যার কারনে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কম আসছে। অনেক শিক্ষার্থীদের বাড়ী বন্যা কবলিত এলাকায়।
জেলার ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আজহার আলী জানান, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী সোনাতলা-সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় মোট ৮৯ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা ফোন ধরেননি।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ এর সাথে কথা বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধে। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় যমুনার পানি বিপদ সীমার ১২৮ সেঃ মিঃ উপড় দিয়ে প্রবাহিত হলেও আজ শুক্রবার সকাল ৯টায় বিপদসীমার ১২৬ সেঃ মিঃ উপড় দিয়ে, দুপুর ১২টায় ১২৬ সেঃ মিঃ দুপুরে ৩টায় ১২৫ সেঃ মিঃ সন্ধ্যা ৬টায় ১২৪ সেঃ মিঃ উপড় দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধাপে ধাপে পানি কমছে। বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধে বাঁধের ঢাল কেটে স্থায়ী বাড়ী নির্মান, খড়ের পলা এসবের কারনে ইঁদুরের গর্ত বিপদজ্জনক। বাঁধ থেকে স্থায়ীভাবে বাড়ী-ঘর সরানো উচিত। এসব স্থায়ী বাড়ী নির্মান এবং ইঁদুরের গর্তের কারনেই বিভিন্ন সময় পানি চুঁইয়ে বাঁধ ভেঙ্গে গেছে।