নোতুন খবর.কম :
বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বগুড়া জেলার উদ্যোগে বন্দি মুক্তি দিবসে এস এ রশিদ, জনার্দন দত্ত নান্টু, মিজানুর রহমান বাবুসহ গ্রেফতারকৃত সকল নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবি এবং সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করার দাবিতে সাতমাথায় মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাম গণতান্ত্রিক জোট বগুড়া জেলার সমন্বয়ক, বাসদ বগুড়া জেলা আহŸায়ক অ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু।
বক্তব্য রাখেন সিপিবি জেলা সভাপতি জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, বাসদ জেলা সদস্য সচিব সাইফুজ্জামান টুটুল, গণসংহতি আন্দোলন জেলা সমন্বয়কারী আব্দুর রশীদ। সমাবেশ পরিচালনা করেন যুব ইউনিয়ন জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান আহমেদ রবিন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত ১৯ অক্টোবর’২০ সকল রাষ্ট্রীয় পাটকল চালু ও আধুনিকায়ন করা, শ্রমিকদের সকল বকেয়া পরিশোধ, লোকসানের জন্য দায়ী মন্ত্রণালয় ও বিজেএমসির কর্মকর্তাদের বিচার, সরকারি-বেসরকারি সকল পাটকলে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার দাবিতে খুলনায় পাটকল শ্রমিক অবস্থান কর্মসূচী চলাকালে পুলিশ হামলা চালায়, শ্রমিক কলোনিতে ঢুকে শ্রমিক পরিবারের ওপর হামলা চালায়, টিয়ারগ্যাস মারে এবং ফাকা গুলি করে এবং সেই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কণ্ঠ রোধ করতে সেই কর্মসূচী থেকে ১৫ জন শ্রমিক নেতাকে গ্রেফতার করে। একজনকে ঐদিন রাতেই ছেড়ে দিলেও বাকী ১৪ জনের নামে হত্যা চেষ্টার মামলাসহ আরো কয়েকটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। এই মামলাই বলে দেয় এই সরকার কোনভাবেই গণতান্ত্রিক কোনও পরিবেশ রাখতে চায় না, স¤পূর্ণরূপে স্বৈরাচারি কায়দায় দেশ পরিচালনা করছে।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার পাটকল বন্ধ করেছে, ১৫টি চিনিকল বন্ধের পাঁয়তারা করছে। রাষ্ট্রায়ত্ব সকল প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিখাতে ছেড়ে দেয়ার পরিকল্পনা করছে। এই সরকারের আমলে দুর্নীতি, লুটপাট, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, নারী-শিশু নির্যাতন-ধর্ষণ সকল রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ফলে বর্তমান সরকারের কাছে দেশ-জাতি ও জনগণ নিরাপদ নয়।
বক্তাগণ বলেন, বিশ্বব্যাপী পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে বিপুলভাবে। বক্তাগণ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের পেছনে সরকারের বড় অজুহাত লোকসান। কিন্তু কেন লোকসান, কাদের কারণে লোকসান, লোকসান বন্ধ করতে কী কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল? সে সব প্রশ্নের কোন উত্তর নেই। সরকার মাথা ব্যথায় ওষুধ না দিয়ে মাথা কেটে ফেলার ব্যবস্থা করছে। যারা এসব প্রশ্ন করছে তাদের বিরুদ্ধেই গ্রেফতার, মিথ্যা মামলা দিয়ে তারা জানান দিচ্ছে এখানে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না। সরকার জনগণের কথা বলার অধিকার হরণ করে চলেছে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবি জানান এবং সরকারের এই অগণতান্রিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান।