নোতুন খবর.কম : বগুড়ায় রেলওয়ের জায়গায় অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের প্রথম দিন ২ শতাধিক দোকান ঘর উচ্ছেদ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে শহরের সেউজগাড়ী ও রেল ষ্টেশন এলাকায় এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। উচ্ছেদ অভিযানে রেল বিভাগের কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন, লালমনিরহাটের চীফ স্টেট অফিসার রেজাউল করিম, লালমনিরহাটের বিভাগীয় প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, ভিভিশনাল স্টেট অফিসার মোঃ রেজাওয়ানুল হক।
জানাযায়, রেলওয়ে স্টেশনের দক্ষিণে ফাঁকা জায়গা বাণিজ্যিকভাবে ইজারা দেওয়ার জন্য কয়েকটি প্লটে ভাগ করে ২০১৮ সালের শুরুতে টেন্ডার আহবান করা হয়। তখন যারা সর্বোচ্চ দর দাখিল করেছিলেন তাদের নামে ডিমান্ড নোট ইস্যু করা হয় এবং ২০১৮ সালের ২৬ আগস্টের মধ্যে লাইসেন্স ও নকশা ফি’র টাকা জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু তারা সেই অর্থ জমা না দিয়েই বগুড়া শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নান আকন্দের মাধ্যমে রেলওয়ের ওই জায়গায় দোকান নির্মাণ করে তা বিক্রি করা শুরু করেন। এজন্য প্রতি দোকান সাইজ অনুযায়ী ৩ থেকে ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, রেলওয়ে স্টেশনের দক্ষিণে ডি এবং ই বøকে যারা টেন্ডারে সর্বোচ্চ দর দাখিল করেছিলেন তাদের মধ্যে মাত্র ৬৭জন ছাড়া বাকিরা টাকা জমা দেননি। কিন্তু টাকা জমা না দিলেও সেখানে ২০০টি দোকান নির্মাণ করা হয়। যাতে টাকা জমা দেওয়া ৬৭জনের জন্যও কোন দোকান রাখা হয়নি। এমনকি টেন্ডার করা হয়নি এমন জায়গাতেও দোকান ঘর নির্মাণ করা হয়।

তবে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে দোকানের জায়গা বরাদ্দ পাওয়া শহরের চকসুত্রাপুর এলাকার আবুল হোসেন নামে একজন জানিয়েছেন, পারিবারিক ও ব্যবসায়িক সমস্যার কারণে তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাইসেন্স ও নকশা ফি জমা দিতে পারেন নি। তবে পরবর্তীতে সমুদয় ফি জমা দেওয়ার সুযোগ চেয়ে তিনি গত ১০ নভেম্বর রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) বরাবর আবেদন করেছিলেন।

রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা রেজোয়ানুল হক জানান, বার বার তাগাদা দেওয়ার পরেও যারা ডিমান্ড নোটের টাকা জমা দেননি তাদের বরাদ্দপত্র চলতি বছরের ২৭ মে বাতিল করা হয়। যেহেতু সেগুলো অবৈধ হয়ে গেছে তাই এখন উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বগুড়ায় রেলওয়ে স্টেশন এলাকার দক্ষিণ পার্শ্বে টেন্ডারের মাধ্যমে পাওয়া জায়গায় রেল বিভাগের নিজস্ব মাষ্টার প্লান অনুযায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা হয়নি বলে সেগুলোও উচ্ছেদের আওতায় পড়েছে।

বগুড়া রেলয়ের ফিল্ড কানুনগো গোলাম নবী জানান, যে ৬৭ ব্যক্তি টাকা জমা দিয়েও দোকান বরাদ্দ পাচ্ছিলেন না উচ্ছেদ অভিযান শেষে তাদেরকে জায়গাগুলো বুঝে দেওয়া হবে। তবে যোগাযোগ করা হলে বগুড়া শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নান আকন্দ জানান, তার নামে কোন জায়গা কিংবা দোকান বরাদ্দ নেই। তিনি শুধু দোকান ঘর নির্মাণের ঠিকাদার ছিলেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, যারা দোকান বরাদ্দ পেয়েছিলেন তারা তার পাড়ার লোকজন। তিনি বলেন, ‘রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এভাবে উচ্ছেদ না করে দোকানগুলোর কাঠামো ঠিক রেখে নতুন করে টেন্ডার আহবান করতে পারতেন।’