নোতুন খবর.কম :
বগুড়ায় লবন নিয়ে গুজবে কান না দিতে প্রশাসনের পক্ষথেকে মাইকিং করা হয়েছে। এছাড়াও বিসিক শিল্প নগরির পক্ষথেকে জানানো হয়েছে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। লবনের ঘাটতি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। গুজবে কান না দেয়ার জন্য সবার প্রতি আহবানও জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেল থেকে বগুড়ায় লবনের দাম নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। মুহর্তের মধ্যে বাজার গুলেতে হুমরি খেয়ে পড়ে লবন ক্রেতারা। যেসকল দোকানে লবন বিক্রি হচ্ছে সেখানে ৩০ টাকা কেজি দরেই লবন কিনছে ক্রেতারা। বগুড়া রাজা বাজার ও ফতেহ আলী বাজারে গিয়ে দেখা যায়, শুধু লবন কেনার জন্য পুরুষ মহিলারা ভীড় জমিয়েছেন। দোকানদারের সাথে কথা বলার সুযোগ নাই। কোন দোকানে লবন বিক্রি করতে দেখলে সেখানেই ভীড় জমাচ্ছে ক্রেতারা। ব্যবসায়ীরাও লবনের ঘাটতি নেই বলে জানালেও শুনছেনা কেউ। অনেক দোকানে গিয়ে দেখাযায় ক্রেতারে ভীড়ে ব্যবসায়ীরা নেই বলে দোকান বন্ধ করে দিচ্ছে। অনেকেই লবনের বস্তাই সামনে নিয়েএসে রাখছে। যতটুকু লাগে ততটুকু করেই দেয়ার জন্য।
ফতেহ আলী বাজারের দোকানদার আইনুল জানালো, দোকানে লবন শেষ। তবে গুদামে গুদামে এখনও পচুর লবন রয়েছে। ক্রেতারা অযথা দাম বাড়ার গুজবে ভীড় জমাচ্ছে। আরো কয়েকটি দোকানে গিয়ে দেখা গেল সেখানেও লবন শেষ হয়ে গেছে। যে কয় দোকানে লবন আছে সেখানেও প্রচন্ড ভীড়।
রাজা বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, মানুষ এতই গুজবে কান দেয়। আমার দোকানে ৩ বস্তা লবন ছিলো। অন্যসময় যেটা বেচতে ১৫/২০ দিন সময় লেগেযোয়। কিন্তু আজ হঠাৎ করেই বিকেলে গুজব ছড়িয়ে পড়লে এতই লবন ক্রেতা এসেছে যে সব লবন বিক্রি হয়ে গেছে। এতেই বোঝাযায় হুজুগে বাঙ্গালী। কে কোথায় কি বলল সেটা নিয়েই তাড়াহুরা। তিনি বলেন, কোন সংকট নেই। যত লবন লাগে দেয়া যাবে। এসময় রাজা বাজারের অনেক ছোট ব্যবসায়ীকে দেখাযায় লবন বিক্রি না করে সরিয়ে রাখতে। অনেকেই দোকান বন্ধ করে দেয়।
এদিকে লবনের গুজব ছড়িয়ে পড়লে বগুড়ার বাজার পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহমাদ। তিনি ফতেহ আলী বাজারে ঢুকতেই এক ব্যবসায়ীকে কয়েক বস্তা লবন সরিয়ে নিতে দেখেন। এরপর তিনি লবন গুলি আটক করে যার লবন তার হাত দিয়েই ৩০ টাকা কেজি দরে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করান। তিনি শহরের বিভিন্ন বাজার পরিদর্শন করেন। এরমধ্যেই লবনের বিষয়টি গুজব। এতে কান নাদিতে আহবান জানিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষথেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হয়। এদিকে সন্ধ্যায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বাজার মনিটর করা হয়। এসময় তিনি গুজবে কান না দিতে ক্রেতাদের প্রতি আহবান জানান। এসময় তিনি বলেন, আমরা সব সময় বাজার মনিটর করছি। কোন ব্যবসায়ী অসত উদ্দেশ্যে বাজারে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রাতে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) শিল্প সহায়ক কেন্দ্র বগুড়ার পক্ষথেকে এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিসিক বগুড়ার উপ-মহাব্যবস্থাপক মোঃ জাহেদুল ইসলঅম স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমানে চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি লবন মজুদ রয়েছে। একটি মহল লবন ঘাটতি সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর সংবাদ ছড়াচ্ছে। তারা জানায়, গত ১৫/১১/১৯ তারিখ পর্যন্ত দেশে লবনের মজুদ পরিমান ৬.৫০ লক্ষ মে.টন।