নোতুন খবর.কম :
বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৪ দালালকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ৭ জনকে এক মাসকরে বিনাশ্রম কারাদন্ড, ৬ জনের ৫ হাজার টাকাকরে জরিমানা ও দিগন্ত ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের মালিক রুমা বেগমকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় ।

১ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলে, শাজাহানপুর উপজেলার বেতগাড়ী এলাকার সাইফুল ইসলাম (৫৭), সাবরুল এলাকার রিপন (৩০), সদর উপজেলার সাবগ্রামের রফিকুল ইসলাম (৩৫), হুকমাপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৫০), ঠনঠনিয়ার শ্রী বুলু সরকার (৩৮) এবং গাবতলী উপজেলার রতিশ চন্দ্র (৪০) ও শফিকুল ইসলাম (৪০)।

৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া এলাকার সহিদুল ইসলাম (৫২), চকসূত্রাপুরের রুবেল শেখ (৪০), চকলোকমানের আনিছুর রহমান (৪০), ঠনঠনিয়ার আমিনুল ইসলাম (৩৯), বেলাইলের সাগর (২৬), ও কাহালু উপজেলার মুরইলের মো. হেলাল (৫০)।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়ার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাছিম রেজা এই সাজা প্রদান করেন। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সহযোগিতা করেন বগুড়া র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান-১২ (র‌্যাব)। এদেরকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতায় এই কারা ও অর্থ দণ্ড দেন বিচারক।

অভিযান সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কিছু দালাল রোগীদের প্রতারণা করে বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। অনেকে আবার ভুয়া প্রতিষ্ঠান কিংবা ডাক্তারের খপ্পরে পড়ছেন। বিভিন্ন সময়ে পাওয়া অভিযোগ আমলে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বগুড়া র‌্যাপিড- ১২ এর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, র‌্যাবের কাছে বিভিন্ন মানুষ লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন হাসপাতাল এলাকা দালালমুক্ত করতে। অভিযোগ পাওয়ার পর গোপনে অনুসন্ধ্যায় চালানো হয়। অনুসন্ধানে জানা যায় আসলেই ওই এলাকায় দালালদের খপ্পরে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। এ কারণে অভিযান পরিচালনা করা হয়। জনস্বার্থে এসব অভিযান চলবে।

অভিযানে থাকা ম্যাজিস্ট্রেট নাছিম রেজা বলেন, মেডিকেল এলাকায় দালাল চক্র সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীদের প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে তারা ভুয়া টেস্ট করেন। ডাক্তারগুলোও মানসম্পন্ন কিনা তা নিশ্চিত নয়। কারণ সরকারি ডাক্তার মান সম্পন্ন। এই দালাল চক্র দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছিল। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে এই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আর যাদের হাতেনাতে ধরা হয়েছে তারা অপরাধ স্বীকার করেছেন। এ কারণে তাদের জরিমানা করা হয়েছে।