নোতুন খবর.কম :
বগুড়া দুঁপচাচিয়ায় চাঞ্চল্যকর গলা কেটে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় জড়িত থাকায় বাবা আব্দুর রহমান (৫) ও তার মেয়ে রুপালী বেগমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উপজেলার বেড়ুঞ্জা গ্রামে গলাকাটা ও আগুনে পোড়ানো অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশের পরিচয়ও উদ্ধার করেছে পুলিশ। অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ মাঠে নেমেছে। নিহত ব্যক্তি সেলিম প্রামানিক (৩২) দুপচাঁচিয়ার খিদিরপাড়া গ্রামের কফির উদ্দিনের ছেলে। সে পেশায় একজন রং মিস্ত্রি।

শনিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সভাকক্ষে প্রেস ব্রিফিং-এ পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা জানান, রুপালীর স্বামী দেড় বছর যাবত সৌদি আরব থাকে। নিহত সেলিম এবং রুপালীর মধ্যে ছোট বেলায় প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের দুজনের বিয়ে অন্যত্র হলেও মোবাইলে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। রুপালীর স্বামী বিদেশ চলে যাওয়ার পর দুজনের পরকীয়া আরো গভীর হলে বিভিন্ন সময়ে একান্তে মিলিত হয়। এক পর্যায়ে সেলিম রুপালীকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে সে নাকোচ করে। সেলিম আগে থেকেই তাদের একান্তে মিলিত হওয়ার দৃশ্য গুলি গোপনে ভিডিও করে রাখে। রুপালী সেলিমকে বিয়ে করতে অস্বীকার করলে ক্ষুদ্ধ হয় সেলিম ইমোর মাধ্যমে একান্তে মিলিত হওয়ার দৃশ্য সৌদিতে অবস্থানরত রুপালীর স্বামী ইকরামুলের কাছে পাঠায়। ক্ষিপ্ত হয়ে রুপালী তার বাবা আব্দুর রহমানের সাথে পরামর্শ করে সেলিমকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করতে থাকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিয়েতে রাজি হওয়ার পাশাপাশি সেলিমকে খুন করার জন্য পূর্বপরিচিত খুনির সাথে সলাপরামর্শ করে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ৪ ফেব্রæয়ারী সন্ধ্যায় রুপালী সেলিমকে পালিয়ে তার বান্ধবির বাড়ীতে গিয়ে বিয়ে করার জন্য মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়। তারপর তারা গোপনে বাড়ী হতে বের হয়ে ভ্যানযোগে ৪/৫ কিলোমিটার গিয়ে পাঁকা রাস্তা থেকে নেমে পায়ে হেঁটে মাটির রাস্তা দিয়ে জয়পুরহাট জেলার খেতলাল থানার বেরুজ গ্রামের দিকে যেতে থাকে। এসময় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রুপালীর বাবা এবং তার ৩ সহযোগী রুপালী ও সেলিমকে কথা আছে বলে ডেকে রাস্তা থেকে মাঠের মধ্যে নিয়ে যায়। রুপালী সেলিমকে তার বাবা ও সহযোগী খুনীদের হাতে তুলে দিয়ে সে বাড়ীতে চলে যায়। আব্দুর রহমান ও তার সহযোগী ৩ জন খুনী সেলিমকে বড়কোল ও বেরুজ গ্রামের বিস্তৃর্ন ফসলের মাঠের মাঝে নিয়ে যায়। সেখানে আসামীরা সেলিমকে হাত পা রশি দিয়ে বেঁধে মুখ ও মাথা স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। এরপর লাশ যেন কেউ চিনতে না পারে সে জন্য সেলিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ তার অন্যান্য পরিধেয় জিনিপত্র তার বুকের উপর রেখে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে তারা পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার পূর্বে হত্যাকান্ড ভিন্নথাতে প্রবাহের জন্য ৬ টি কনডম ঘটনাস্থলের পার্শ্বে ফেলে যায়। এঘটনায় মৃত সেলিমের বাবা কফির উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে দুপচাঁচিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিঞ্জাসাবাদে হত্যার কারণ এবং নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।