সাব্বির হাসান, গাবতলী (বগুড়া) প্রতিনিধি ঃ

বগুড়ার গাবতলী পৌর সদরে রেললাইনের পাশে ডোবায় মাটি ভরাট করে চলছে দলিল লেখকদের কার্যক্রম। এতে করে সচেতনমহলের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গাবতলী উপজেলা পরিষদের ভিতরে দীর্ঘ চার যুগ আগে নির্মিত পুরানো এক ভবন ভাড়া নিয়ে গাবতলী সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের অফিসিয়াল সকল কাজকর্ম শুরু হয়। আর এই অফিসের পূর্বধারে পরিত্যক্ত জায়গায় দলিল লেখার কাজগুলো সম্পন্ন হয়ে আসছিলো। কিন্তু এখন সাব রেজিষ্ট্রি অফিস ভবনটি জ্বরাজীর্ণ ও ছাদের স্থানে স্থানে ভেঙ্গে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি পড়ে অফিসিয়াল মূল্যবান কাগজপত্র ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া সাব রেজিষ্ট্রি অফিস ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। এদিকে জেলা রেজিষ্টার অফিস গাবতলী সাব রেজিষ্ট্রি অফিসকে অতিদ্রুত নতুন কোন জায়গা ভাড়া নিয়ে অফিসিয়াল কাজ চালানোর জন্য জোর তাগিদ দেয়।
গত ০২সেপ্টেম্বর হতে অফিসিয়াল সকল কাজকর্ম ও দলিল লেখার কাজ বন্ধ করে নতুন জায়গা খুঁজতে থাকে গাবতলী সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। এতে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের কাজ একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করা থেকে বঞ্ছিত হতে থাকে। দীর্ঘ ২০দিন সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের কাজ বন্ধ থাকে। এরপর গত সপ্তাহ দু’এক আগে থেকে পৌর সদরের লিজান কমপ্লেক্সের ২য়তলা ভাড়া নিয়ে সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের কার্যক্রম শুরু করা হয়। কিন্তু দলিল লেখকগণ তাদের সেরেস্তার উপযুক্ত জায়গা না পাওয়ায় লিজান কমপ্লেক্সেরই উত্তরধারে এবং রেললাইনের পূর্বধারে পরিত্যক্ত রেলের ডোবা জায়গাটি তারা জনৈক বাবু ও সজিব কাজীর কাছ থেকে স্বল্প টাকায় ভাড়া নিয়ে ২০ সেপ্টেম্বর হতে দলিল লেখার কাজ শুরু করেন।
এ প্রসঙ্গে বাবু কাজী স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, তিনি দীর্ঘদিন আগে রেলবিভাগের কাছ থেকে লিজ নিয়ে নিয়মিত খাজনা দিয়ে আসছেন। রেলের এই ডোবায় আশপাশের মসজিদের পানি তৈরীকৃত ড্রেনের মাধ্যমে গড়িয়ে আসতো। এতে ডোবাটি ছিল অত্যন্ত নোংরা ও দূর্গন্ধপূর্ণ। আশপাশের বসবাসকারীরা তাদেরকে অভিযোগ দিতো। তাই তিনি ওই ডোবায় ৩লাখ টাকার মাটি ভরাট করে দলিল লেখকদের টিনের চালাঘর তৈরী করে সামান্য টাকায় ভাড়া দিয়েছেন বলে জানান। অথচ রেলবিভাগ মিথ্যা এক ঘটনা সাজিয়ে পৌর আওয়ামী লীগের আহবায়ক আজিজার রহমান পাইকারসহ তাকে ও তার ছোটভাই সজিব কাজীর নামে থানায় একটি মামলা ঠুকে দিয়েছেন বলে তিনি দুঃখপ্রকাশ করেন।
এ ব্যাপারে গাবতলী দলিল লেখক সমিতির সভাপতি নুরুন্নবী প্রামানিক ও সেক্রেটারী আপেল জানান, এই রেলের জায়গায় কাজ শুরু হওয়ায় দলিল লেখকদের সহযোগিতায় সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের মাধ্যমে সরকারী কোষাগারে দৈনিক ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার রাজস্ব জমা হচ্ছে।