সাব্বির হাসান গাবতলী (বগুড়া) প্রতিনিধি ঃ বগুড়ার গাবতলীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি ঘন জনবসতি এলাকায় ফসলী জমিতে অবৈধভাবে ইটভাটা গড়ে ওঠায় ইউএনও রওনক জাহানের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। গত ০৪অক্টোবর ওই লিখিত অভিযোগটি দাখিল করেন উপজেলার রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের আশরাফু-দ্দৌলা সরকার পাপুলসহ এলাকার ৮০জন ভূক্তভোগী।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী ফসলী জমি ও লোকালয় থেকে কমপক্ষে ১কিলোমিটার দূরে ইটভাটা নির্মাণ করতে হবে। কিন্তু রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামে জনৈক এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ২০০৯সালে নিয়মের কোন তোয়াক্কা না করে বেআইনীভাবে লোকালয় ও ফসলি জমিতে একটি ইটভাটা স্থাপন করেছেন। আর এই ইটভাটায় অবৈধভাবে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে নি¤œমানের কয়লা ও কাঠ। ফলে ধূলাবালি, কালো বিষাক্ত ধোঁয়া ও অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে ওই গ্রামের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দুষিত হচ্ছে। এতে করে চর্মরোগ, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শ্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ভূক্তভোগী আশরাফু-দ্দৌলা সরকার পাপুল অভিযোগে আরো বলেন, ওই ইটভাটার প্রভাবে ২০১৪সালের ৬আগষ্টে তার মা, ২০১৬সালের ১৭মার্চে তার একটি নবজাতক পুত্রসন্তান, ২০১৬সালের ২১মার্চে তার স্ত্রী, ২০১৮সালের ৫এপ্রিলে তার বাবা অকালে মারা গেছেন। এখনো ওই ইটভাটার বিষাক্ত প্রভাবে পাপুলসহ তার ভাই-ভাবী ও সন্তানেরা শরীরে বিভিন্ন রোগ বহন করে বেড়াচ্ছেন। অবৈধ এই ইঁটভাটার কয়লা ও কাঠের বড় বড় গাড়ী চলাচলের কারণেই বটতলা হতে মুছিখালী পর্যন্ত এক কিলোমিটার ইটের সলিং বিছানো রাস্তাটি চলাচলের উপযুক্ততা হারিয়েছে অনেক আগেই। ফলে ওই সড়কে প্রতিনিয়ত ছোটবড় দূর্ঘটনা ঘটছে।
এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা জানান, ইটভাটাগুলো ফসলী জমির কাছাকাছি গড়ে উঠায় ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় বøাষ্ট রোগে অনেক জমির বোরো ধান নষ্ট হয়ে গেছে। তাছাড়া বিভিন্ন গাছের ফুল ও ফল ঝরে যায়। শাকসবজি, গাছ-গাছরা বিবর্ণ হয়ে যায়। ফলে সঠিক সময়ে সঠিক পরিমান কোন ফসলই পাওয়া যায় না।
এ প্রসঙ্গে গাবতলীর ইউএনও রওনক জাহান এর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, এই সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ হাতে পেয়েছি। তবে ইটভাটার লাইসেন্স দেয়া বা লাইসেন্স বাতিল করা তাঁর এখতিয়ার বহির্ভূত কাজ। এদিকে আবাদী জমি ও লোকালয়ে গড়ে উঠা ওই অবৈধ ইটভাটাটি অতি দ্রæত বন্ধের জন্য সংশ্লি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জোর দাবী জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থ আশরাফু-দ্দৌলা সরকার পাপুলসহ ভূক্তভোগী এলাকাবাসী।