সাব্বির হাসান, গাবতলী (বগুড়া) প্রতিনিধি ঃ

বগুড়ার গাবতলীতে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর আওতায় হত দরিদ্রদের মাঝে ১০টাকা কেজি দরে বিক্রির ২৪ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলার সাহাবাসপুর থেকে এই চাল উদ্ধার করেন উপজেলা প্রশাসন।
জানা গেছে, মঙ্গলবার খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর আওতায় হতদরিদ্রদের মাঝে ১০টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করছিল নেপালতলী কেন্দ্রের ডিলার সাইফুল ইসলাম। কিন্তু স্থানীয় কদমতলী এলাকার চাতাল মালিক গোবিন্দ হতদরিদ্রদের কাছ থেকে ২৪ বস্তা চাল ক্রয় করেন। বিক্রিত এই চাল দুটি অটোভ্যান গাড়ীতে করে কদমতলী নিয়ে যাওয়ার পথে সাহাবাসপুর ব্রেইলী ব্রীজের নিকট পৌঁছিলে বগুড়া থেকে সারিয়াকান্দির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়া কিছু সাংবাদিক তাদের থামিয়ে চালের বস্তা ও ভ্যান চালকদের ভিডিও ধারণ করেন। তখন ভয়ে ভ্যান চালকরা সাহাবাসপুর স্ট্যান্ডে চালের বস্তা রেখে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ রওনক জাহান ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) শাহানশাহ হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে উক্ত চাল উদ্ধার করে উপজেলা পরিষদে নিয়ে আসেন।
এ ব্যাপারে চাল বিক্রির ডিলার সাইফুল ইসলাম বলেন, কার্ডধারী হতদরিদ্রদের মাঝে ১০টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করা হয়েছে। উত্তোলনের পর এই সুবিধাভোগীরা কে, কার কাছে এই সরকারী চাল বিক্রি করেছে-তা আমার জানা নেই।
তবে সচেতন এলাকাবাসী জানান, খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর আওতায় হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ১০টাকা কেজি সরকারী চাল ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ হলেও ডিলারের যোগসাযোশে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে স্বল্পমুলে ক্রয় করে থাকেন। তাদের নিষেধ করলেও তারা কারা কথা শোনেন না। চাল ক্রেতা গোবিন্দ চন্দ্র রায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
এবিষয়ে ট্যাগ অফিসার সুখানপুকুর খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা হাসিবুল হাসান বলেন, সরকারী কাজে ব্যস্ত থাকায় চাল বিতরণ কেন্দ্রে তিনি যেতে পারেননি। তবে ৩০ কেজি ওজনের ২৪ বস্তা চাল উদ্ধার হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
এ ব্যাপারে ইউএনও মোছাঃ রওনক জাহান স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, চালগুলো কারা বিক্রি করেছে এবং কে কিনেছে-তাদের উভয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরদিকে উপজেলার কাগইল ইউনিয়নের দরিপাড়ায় হতদরিদ্রদের মাঝে ১০টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ নিয়ে হট্রোগোল সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে দ্রæত ছুটে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান রফি নেওয়াজ খান রবিন এবং ইউএনও রওনক জাহান। এবিষয়ে তারা জানান, তুচ্ছ এক বিষয় নিয়ে ডিলার এবং সুবিধাভোগীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল।