নোতুন খবর.কম :
কমিটি বাণিজ্য, জামাত, বিএনপির লোকদের কমিটিতে রাখা ও মাদক মামলায় কারাগারে থাকাদের কমিটিতে রাখার অভিযোগ উঠেছে সদ্য ঘোষিত বগুড়া জেলা মৎস্যজীবী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে।পাশাপাশি আগে না জানিয়ে কমিটিতে নাম দেয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ বগুড়া জেলা শাখার ৮ নং সদস্য আবুল কালাম সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও বগুড়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের বরাবরে লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে মৎস্যজীবী লীগের বগুড়া জেলা কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবী জানিয়েছেন।
এবিষয়ে বগুড়া জেলা মৎস্যজীবী লীগের সদস্য সচিব মাে: কামরুজ্জামান মানিক বলেন, আবুল কালাম নামের একজন আছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন অনুষ্ঠানে আসেননি। কমিটিতে জামাত-বিএনপির লোকদের নেয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আহবায়ক কমিটিতে যাদের নাম আছে সবাই পরীক্ষিত।

আবুল কালাম তার লিখিত অভিযোগে লিখেছেন, সংগঠন এর বর্তমান কমিটিতে তার নাম নিযুক্ত করার পূর্বে এবং বর্তমানে তাকে কোন প্রকার অবগতি না করে উক্ত কমিটিতে নাম দেওয়া হয়েছে এবং তার ঠিকানা হেউট নগর, ধনুট উপজেলা হওয়া সত্বেও উক্ত কমিটির কাগজ পত্রে মিথ্যা তথ্য প্রদান করে মাটিডালী, সদর, বগুড়া দেখানাে হয়েছে। পূর্ব হতে অদ্যবধি এই কমিটির সাথে কোন প্রকার সাংগঠনিক কর্মকান্ডে পূর্বেও জড়িত ছিলাে না বার্তমানেও জড়িত নাই। বিভিন্ন সূত্রমতে সে জানতে পারে যে, উক্ত সংগঠনের মাে: রাসেল আহম্মেদ (কনক) আহবায়ক এবং মাে: কামরুজ্জামান মানিক সদস্য সচিব হিসাবে নিযুক্ত আছেন। উক্ত সংগঠনের আহবায়ক সদস্য সচিব তাকে সহ অন্যান্য সদস্য/ নেতা কর্মী বৃন্দকে অবগত না করে তাদের ব্যক্তিগত একক মনােনিত কিছু সদস্য নেতা কর্মীকে নিয়ে ব্যক্তিগত ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কারণ উক্ত আহবায়ক সদস্য সচিব জেলা/উপজেলা কমিটির কিছু নেতা কর্মীকে উল্টো-পাল্টা, ভূল-ভাল বুঝিয়ে, যে এই কমিটি কেন্দ্রীয় কমিটির নিকট থেকে, জেলা কমিটি অনুমােদন করে নিয়ে আসতে ২ লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা কেন্দ্রীয় কমিটি কে দিতে হয়েছে। উক্ত কেন্দ্রীয় কমিটির নাম ভাংগীয়ে/অপপ্রচার চালিয়ে জেলা/উপজেলা কমিটিতে পদ-পদবী দেওয়ার নাম করে, কমিটি দেওয়ার নাম করে, বিভিন্ন কর্মসূচী/প্রােগ্রামের নাম করে মােটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে নিজেদের পকেট ভারী করছে।
এছাড়াও উক্ত আহব্বায়ক কমিটিতে ১১নং সদস্য মোঃ আহসান হাবিব বিএনপি’র যুবদলের সক্রিয় কর্মী এবং তার মাতা মােছাঃ হাওয়া বেগম বিএনপি থেকে মনােনয়ন পত্র উত্তোলন করে বর্তমানে বগুড়া পৌরসভার ১৯,২০,২১ নং ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হয়েছেন এবং ১২ নং সদস্য সহিদ জাকারিয়া বাবু, বগুড়া জেলা আহব্বায়ক কমিটি গঠন করার পূর্ব থেকেই মাদক দ্রব্য মামলায় অদ্যবধি জেল হাজতে আছে।
আরাে উল্লেখ থাকে উক্ত সংগঠন পেশাজীবী সংগঠন অর্থাৎ সংগঠনটি মৎস্যজীবী সংগঠন হওয়া স্বর্তেও, মৎস্যজীবী পেশার কোন লােক উক্ত সংগঠনে সদস্য হিসাবে অন্তর্ভূক্ত করা হয় নাই। বিধায়, উক্ত সংগঠনের আহব্বায়ক/সদস্য সচিব ব্যক্তিদ্বয় নিজেস্ব স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে তাহাদের একক মনােনিত জামাত, বিএনপি ও মাদক সেবনকারী অধিকাংশ ব্যক্তি দ্বারা উক্ত কমিটি গঠন করিয়া বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ এর সম্মানিত সভাপতি জনাব, মজিবর রহমান মজনু সাহেবকে ভূল-ভাল বুঝিয়ে, মিথ্যা তথ্য প্রদান করে উক্ত কমিটি সুপারিশ ক্রমে কেন্দ্রীয় কমিটির নিকট হইতে জেলা কমিটি অনুমােদন করে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে উক্ত সংগঠনের আহব্বায়ক/সদস্য সচিবসহ কিছু নেতা কর্মী দলীয় শৃঙ্গোলা ভঙ্গ করে নানা রকম অনিয়ম-দূনীর্তির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ তথা পুরাে আওয়ামী লীগ সংগঠনের মান-সম্মান নষ্ট/ক্ষুন্ন করছে এবং দেশ ও সমাজের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করছে। উক্ত ব্যক্তিদ্বয় সহ তাদের বিরুদ্ধে জরুরী ভাবে সাংগাঠনিক বিধি-ব্যবস্থা গ্রহন করা সহ সেই সাথে উক্ত বগুড়া জেলা কমিটি বিঘুপ্ত করার প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বক পূনরায় জেলা কমিটি ঘােষনা করা হােক মর্মে জোড় দাবী জানিয়েছেন অভিযোগ কারী।