নোতুন খবর. কম : বগুড়ার ধুনট সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে দলিল লেখক সমিতির কমিটি গঠন নিয়ে যুবলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে যুবলীগ ও শ্রমিকলীগ নেতা সহ তিন জন আহত হয়েছে। বুধবার দুপুরে ধুনট থানা ভবনের সামনে সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে এঘটনা ঘটে। পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাৎক্ষনিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। এসময় ফজলুল হক ডাবলু নামে এক যুবলীগ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
জানাগেছে, ধুনট সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে দলিল লেখক সমিতির কমিটি গঠন করাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বুধবার দুপুরে দলিল লেখক সমিতির নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে দাবি করে একটি সভা আহবান করে উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি দলিল লেখক ওহিদুল ইসলাম ও যুবলীগ কর্মী ফজলুল হক। ওই সভায় উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক দলিল লেখক সাইদুল ইসলামের সাথে যুবলীগ কর্মী ফজলুল হকের তর্কবিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে পৌর এলাকার পূর্বভরনশাহী গ্রামের মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন সম্পাদক সাইদুল ইসলাম (৪২), ধুনট সদরপাড়া এলাকার মতিয়ার রহমানের ছেলে উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম পিন্টু (৪০) ও সবদের আলীর ছেলে উপজেলা যুবলীগের সহ-সম্পাদক সুজন শেখ (৩৮) আহত হয়। পরে পুলিশ সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এসময় পুলিশ রামনগর গ্রামের মেসের আলীর ছেলে যুবলীগ কর্মী ফজলুল হক ডাবলুকে আটক করে।
এঘটনায় উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন সম্পাদক দলিল লেখক সাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে যুবলীগ কর্মী ফজলুল হক ডাবলু (৪২), কান্তনগর গ্রামের আব্দুল রাজ্জাকের ছেলে লিওন হাসান (৩৫), পূর্ব ভরণশাহী গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাফর ইকবাল সেলিম (২৮), তার ভাই উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব রানা সবুজ (২৬), মাটিকোড়া গ্রামের আব্দুস সবুরের ছেলে উপজেলা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক রুবেল মাহমুদ ও পূর্বভরনশাহী গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ন সম্পাদক শহিদুল মন্ডলের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৫/৭জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন সম্পাদক দলিল লেখক সাইদুল ইসলাম বলেন, দলিল লেখক সমিতির নামে ফজললু হক ডাবলু ধুনট সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখকদের কাছে চাঁদা দাবি করেছিল। কিন্তু এবিষয়ে প্রতিবাদ করলে ও চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে ফজলুল হক ও তার লোকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে অফিসের ভিতরে আমাকে সহ তিনজনকে পিটিয়ে আহত করে।
তবে যুবলীগ কর্মী দলিল লেখক ফজললু হক সমিতির নামে চাঁদা আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, জেলা দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ ধুনট উপজেলার সকল দলিল লেখদের সম্মতি নিয়ে ধুনট উপজেলা দলিল লেখক সমিতির নতুন কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন। তাই বুধবার সমিতির নতুন সভা আহবান করলে কমিটিতে না থাকতে পেরে সাইদুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে এবং আমার লোকজনের উপর হামলা চালায়।
ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, এঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে এবিষয়ে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।