নোতুন খবর.কম : বগুড়া শহরের নাটাইপাড়া কৃষ্ণপাড়ায় তিথী রানী ঘোষ নামে মানিকগঞ্জ নার্সিং কলেজের এক ছাত্রী আত্মহত্যার ঘটনায় সোমবার বগুড়ার আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত তিথীর বড় ভাই আদমদীঘি উপজেলার কুসুম্বি গ্রামের আনন্দ ঘোষ বাদী হয়ে ৮জনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে জেলা বগুড়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল সদর আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালতের বিচারক সুপ্রিয়া রহমান বাদীর অভিযোগ আমলে নিয়ে অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গ্রহন করে মামলাটি তদন্ত করতে বগুড়া সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার গোহাইল পালপাড়ার বিনয় পাল ও তার ছেলে বিমল চন্দ্র পালসহ ৮জনকে আসামী করা হয়েছে।

বাদী তার অভিযোগে বলেছেন, নার্সিং শিক্ষায় শিক্ষিত করতে তার ছোট বোন তিথীকে মানিকগঞ্জ নার্সিং কলেজে ভর্তি করিয়ে দেন। কিন্ত আসামী বিমল চন্দ্র পাল তার স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্বেও বাদীর বোনকে জানিয়েছিল সে অবিবাহিত। এ কথা বলে বাদীর বোন তিথীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে গত ১০-০৩-২০১৯ জেলা বগুড়ার নোটারী পাবলিকের সামনে হিন্দুরীতি অনুযায়ী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিবাহের পর বিমল চন্দ্রের রূপ পাল্টে যায়। ভালবাসার পরিবর্তে সে তিথীর কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করে। টাকা দিতে না পারায় সে বিভিন্নভাবে তিথীর উপর শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকে। বিবাহের ঘটনাটি তিথী প্রথমে গোপন রাখলেও বাধ্য হয়ে সে তার পরিবারের লোকজনদের জানায়। বিবাহের পর তিথী তার স্বামী বিমলের সাথে তার শ্বশুর বাড়িতে গেলে সকল আসামীরা তিথীকে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। অবশেষে ১০-০৯-২০১৯ তারিখ তিথী তার বড় ভাই আনন্দ ও ছোট বোন প্রিতীকে সাথে নিয়ে গোহাইল ইউনিয়নের স্থানীয় মেম্বরদের কাছে বিচার দাবী করে। আসামীরা সেই শালিসে উপস্থিত না হয়ে প্রতিনিধির মাধ্যমে জানায়, যৌতুকের ৫ লক্ষ টাকা দিলে তিথীর সংসার হবে, না দিলে তিথীর সংসার হবে না। আসামীরা অকথ্য ভাষায় তিথীকে গালিগালাজ করে এবং আত্মহত্যা করতে বাধ্য করে। আসামীদের এমত অশালিন বক্তব্য শুনে তিথী নিজেকে সামলাতে না পেরে আসামীদের প্ররোচনায় শহরের ভাড়া বাসায় এসে আত্মহত্যা করে।