নোতুন খবর.কম :: শোকাবহ আগস্টে কালো ব্যাচ ধারণ কর্মসূচীর উদ্বোধন করা নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়ায় বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের দুই গ্রুপের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় আইনজীবী ও মোয়াক্কেলসহ ১১ জন আহত হয়েছেন বলে ২ পক্ষই দাবী করেন। ঘটনায় দুই পক্ষ একে অপরকে অভিযুক্ত করেছে। তবে দুই পক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করলেও কোন পক্ষই আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের সংগঠনের বগুড়ায় কোন কমিটি নেই। সে কারণে ওই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির দুই সদস্য সিনিয়র আইনজীবী বার কাউন্সিলের সদস্য অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টু এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি নরেশ মুখার্জী। তাদের মতামতের ভিত্তিতে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করা হয়। ওই দু’জনের মধ্যে নরেশ চন্দ্র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি। রেজাউল করিম মন্টু সাবেক পিপি ও বগুড়া বারের সাবেক সভাপতি।
প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রতি বছরই ১৫ আগষ্ট পালনে সিনিয়রদের দিয়ে ব্যাচ পড়ানো হয়। এবার এ্যাড. নরেশ মুখার্জী নিজেই ব্যাচ পড়িয়েছেন। এনিয়ে সিনিয়র এ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টুর সাথে কথা কাটাকাটি হয়। পরে নরেশ মুখার্জীসহ কয়েকজন এ্যাড. রেজাউল করিম মন্টুর চেম্বার ভাংচুর করে। এবং তাকে লাঞ্চিত করে। আমরা না থাকলে বড় ধরনের কোন ঘটনা ঘটেযেত।
বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টু জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদত বার্ষিকী স্মরণে আগস্ট মাসজুড়ে নানা কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে আগস্টের প্রথম দিন সংগঠনের সদস্যদের কালো ব্যাচ ধারণের সিদ্ধান্ত হয়। তিনি অভিযোগ করেন, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির অপর সদস্য এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি নরেশ মুখার্জী বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে এককভাবে কালো ব্যাচ ধারণ কর্মসূচী উদ্বোধন করেন। এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে সে অন্যের ওপর দোষ চাপায় এবং আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। পরে তার পক্ষের লোকজন এসে আমার চেম্বারের দরজা এবং মোহরারের টেবিল ভাংচুর করে।’ তিনি বলেন, আমার উপর হামলার সময় আমার পাশে ৩ জন মোয়াক্কেল ছিল। তারাও আহত হয়েছে।
তবে স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট নরেশ মুখার্জী ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি রেজাউল করিম মন্টুর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের মত আচরণের অভিযোগ উত্থাপন করে বলেন, ‘ব্যাচ ধারণ কর্মসূচীর জন্য তাকে বার বার ডাকা হয়েছে। কিন্তু তিনি নির্ধারিত সময়ে আসেননি। পরবর্তীতে তার সম্মতি নিয়েই আমরা ব্যাচ বিতরণ করি। অথচ তিনি আদালতে এসে আমাদের গালিগালাজ করেন। এক পর্যায়ে তার অনুগত কয়েকজন আইনজীবী আমাকে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের অপর স্পেশাল পিপি আশেকুর রহমান সুজন এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত পিপি নুরুস সালাম সাগরসহ ৮ আইনজীবীকে মারপিট করেন।’
এবিষয়ে বগুড়া জেলা বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. সাইফুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, মানুষের বিচারের আস্থার জায়গা আদালত এবং আইনজীবী। সেখানে এধরনের ঘটনা অনাকাংখিত। আমরা খুবই মর্মাহত ও লজ্জিত।