বগুড়া প্রতিনিধি,
প্রাক্তন ছাত্রীদের যৌন হয়রানীর কথোপকথন ফেইস বুকে ভাইরাল হওয়ায় বিয়াম ফাউন্ডেশন পরিচালিত বগুড়া বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই প্রভাষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। বরখাস্তকৃতরা হলেন, ওই কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক আব্দুল মোত্তালিব।
এদিকে যৌন হয়রানীর বিচার চেয়ে শনিবার দুপুরে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ঘটনার দৃষ্ঠান্তমুলক বিচার চেয়ে অধ্যক্ষের নিকট স্বারক লিপি দিয়েছে বলে জানান প্রক্তন ছাত্র রাকিবুল হাসান রক্তিম।
তিনি আরো জানান, তিনশতাধীক শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষর করা স্বারক লিপিতে আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তদন্ত প্রকাশ, দোষীদের স্হায়ী বহিস্কার, দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবী জানানো হয়।
কলেজের অধ্যক্ষ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ফেইস বুকে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি কতৃপক্ষের নজরে আসলে সাময়িক বহিস্কারের পর ওই ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মাসুম আলী বেগ। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুর রহমান ও উক্ত কলেজের অধ্যক্ষ মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি আরো জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত রিপোট দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বলা হয়, শিক্ষক কর্তৃক প্রাক্তন ছাত্রীদের বিভিন্ন ধরনের হয়রানির খবর সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ায় অত্র প্রতিষ্ঠানের দুইজন প্রভাষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

অভিযোগ প্রসঙ্গে বাংলা বিভাগের প্রভাষক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। ছাত্রীর পরিবারের সাথে সমঝোতা হয়েছে। ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আবদুল মোত্তালিব বিষয়টি নিয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তবে তিনি বলেন তার ফেসবুক আইডি বারবার হ্যাকড হচ্ছে।

অধ্যক্ষ মুস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রভাষক আবদুল্লাহ আল মাহমুদের বিরুদ্ধে সাবেক এক ছাত্রী লিখিতভাবে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিয়েছিল। কিন্তু ছাত্রীর পরিবার সমঝোতা করেছে। তদন্তে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মিললে তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সমঝোতা হলে এবার ক্ষমা করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন এবার সেই সুযোগ নেই।

বিয়াম ফাউন্ডেশন বগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক (উপ সচিব) আব্দুর রফিক বলেন, এমন অনৈতিক ঘটনার সাথে যে কেউ জড়িত হোক তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোন ছাড় পাবে না। স্কুল কর্তৃপক্ষকে বিয়াম ফাউন্ডেশনের কড়া বার্তা জানিয়ে দেয়া হয়েছে।