প্রতিনিধি:
বগুড়া শাজাহানপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উদযাপন উপলক্ষে মোমবাতি প্রজ্বলন অনুষ্ঠানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশিক খান ও শাজাহানপুর (ওসি) আজিম উদ্দীন জুতা পায়ে দিয়ে স্মৃতিসৌধে ওঠাকে কেন্দ্র করে সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে তাড়াহুড়োর মাঝে ভুলবশত এমনটি হয়েছে বলে অনুতপ্ত তারা।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উদযাপন উপলক্ষে বগুড়ার শাজাহানপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদের কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধে মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়।

এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা পারভীন, উপজেলা চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন ছান্নু, ভাইস চেয়ারম্যান এম সুলতান আহমেদ, নারী ভাইস হেফাজত আরা মিরা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালেবুল ইসলামসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে শুরু হওয়ার সময় উপস্থিত ব্যক্তিরা স্মৃতিসৌধের বেদীতে উঠে মোমবাতি প্রজ্জলন করেন। এ সময় তারা এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
ছবিতে দেখা যায়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশিক খান ও ওসি আজিম উদ্দীন জুতা পায়ে স্মৃতিসৌধের বেদীতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।

জুতা পরে স্মৃতিসৌধের বেদীতে উঠার বিষয়ে সহাকারি কমিশনার (ভূমি) আশিক খান জানান, ‘এটা অনিচ্ছাকৃত একটি ভুল ছিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্য ডাক দেওয়ায় তাড়াহুড়ো করে বেদীতে উঠে পড়ি। পরে পাশে থাকা কেউ একজন আমাকে জুতা পড়ে উঠার বিষয়ে বলেন। তখন সঙ্গে সঙ্গে জুতা খুলে আবার বেদীতে উঠি।

শাজাহানপুর থানার অফিসার (ওসি) আজিম উদ্দিন জানান কিছু সময়ের জন্য জুতা পড়েছিলাম। পরে আশেপাশের লোকজন বলার পরপরই জুতা খুলে ফেলি। ভুলবশত এটা হয়ে গেছে।

জুতা পায়ে স্মৃতিসৌধে উঠার ঘটনাকে খুব দুঃখজনক বললেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দিলীপ কুমার চৌধুরী। তিনি বলেন, এর অর্থ ওই কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার দরকার, এ জন্য তারা সেখানে ছিলেন। আসলে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ না থাকলে এমনই হয়।

শাজাহানপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার গৌর গোপাল গোস্বামী বলেন, আশ্চর্যজনক বিষয়। এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না। এটা কারা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

শাজাহানপুর উপজেলা চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন ছান্নু বলেন, এমন ঘটনা খুব লজ্জাজনক। এর উপযুক্ত বিচার হওয়া উচিত।