জেলহত্যা দিবস স্মরনে শনিবার বগুড়ায় বঙ্গবন্ধু পরিষদ জেলা শাখার আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১১ টায় শহরের মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল সংলগ্ন আইএইচটি গ্যালারীতে সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা সভাপতি ও বিএমএ বগুড়ার সভাপতি ডা: মোস্তফা আলম নান্নু। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও নর্থবেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি উপাচার্য প্রফেসর ড. আবদুল খালেক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ নুরুল্লাহ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি প্রফেসর ড. জাকারিয়া, বিশিষ্ঠ কলামিস্ট প্রফেসর ড. অরুণ কুমার গোস্বামী। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা: এসএম মিল্লাত হোসেন। ডা: শফিক আমিন কাজলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএমএ বগুড়ার সাধারণ সম্পাদব ডা: রেজাউল আলম জুয়েল, বিশিষ্ঠ আইনজীবি এড. নরেশ মূখার্জি, সাবেক কেন্দ্রিয় ছাত্রলীগনেতা সাখাওয়াত হোসেন শফিক, বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার কেন্দ্রিয় নেতা আননন্দ কুমার সেন, কৃষিবীদ বজলুর রশিদ রাজা, ডা: মাহবুবুর রহমান টুনু, ডা: এটিএম নুরুজ্জামান, দৌলতজ্জামান দৌলত, ডা: গোপাল চন্দ্র কর্মকার, সংস্কৃতজন জিয়াউল হক বাবলা, আবু সাইদ সিদ্দিকী, সাদেকুর রহমান সুজন, ছামছুল আলম, অধ্যক্ষ ডা: আয়ুব হোসেন সহ সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা।
সভায় প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. আবদুল খালেক বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চারনেতাকে হত্যা করে পরাজিত শক্তি দেশকে পাকিস্তান বানাতে চেয়েছিল। ১৫ আগষ্ট ও ৩ রা নভেম্বর একই সুত্রে গাঁথা। ৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই খুনিরা এ নির্মম হত্যাকান্ড ঘটিয়েছিল। ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুকে আটক করে স্বাধীনতার ঘোষনা আটকানো যায়নি। দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বঙ্গবন্ধুর ডাকে। জাতির পিতার নির্দেশে জাতীয় চারনেতা মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে দিয়ে দেশে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাসহ বিভিন্ন দেশের সমর্থন আদায় করেছিলেন। ১৫ আগষ্টের পর খুনিদের মন্ত্রীসভায় জাতীয় চারনেতা যোগ দেননি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতীয় চারনেতা ছিলেন অবিচল। তাই ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে স্বপরিবারে হত্যা করে থেমে থাকেনি। তাদের চক্রান্ত বাস্তবায়নে কারাগারে জাতীয় চারনেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। যারা পাকিস্তানকে রক্ষা করতে পারেনি তারা গভীর চক্রান্তে লিপ্ত ছিল। এটা ছিল আর্ন্তজাতিক ষড়যন্ত্র। এদেশের কিছু বিশ্বাসঘাতক সেই চক্রান্তের সাথে জড়িত থেকে হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে হত্যাকারীরা। এ হত্যাকান্ডের নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীরাও একদিন বিচারের সম্মুখিন হবে ইনশাল্লাহ। পরাজিত শক্তির চক্রান্ত রুখে দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে সমৃদ্ধির পথে। উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে সকলকে কাজ করতে হবে। তিনি বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চারনেতার পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তির ব্যবস্থা করার আহবান জানান। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানার আহবান জানান সভার বক্তারা।