ডেস্ক : আরেক দফা বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুতের দাম। পাইকারি, খুচরা ও সঞ্চালন- এই তিন পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে (খুচরা) প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম গড়ে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৭ টাকা ১৩ পয়সা করা হয়েছে। যা বর্তমানে প্রতি ইউনিট ৬ টাকা ৭৭ পয়সা।
বৃহস্পতিবার বিকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পাইকারি দর ৮.৪ শতাংশ বাড়িয়ে ৫.১৭ টাকা করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আর খুচরা গড়ে ৬.৭৭ টাকা থেকে ৫.৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৭.১৩ টাকা করা হয়েছে। মার্চ থেকে এ মূল্য কার্যকর হবে। এছাড়া হুইলিং চার্জ ৫.৩ শতাংশ বাড়িয়ে ২৯ পয়সা করা হয়েছে। বর্তমানে ২৭ পয়সা রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিইআরসির চেয়ারম্যান আব্দুল এ ঘোষণা দিয়েছেন।

এর আগে গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে বিদ্যুতের (পাইকারি ও খুচরা) দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) গণশুনানিতে উল্লেখ করেছিল এলএনজি আমদানির কারণে গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ খাতে বছরে মোট ব্যয় বাড়বে ২ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া কয়লার উপর ভ্যাট আরোপ করায় কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুতের ব্যয় বেড়ে যাবে। সব মিলিয়ে ২০২০ সালে বর্তমান দর অনুযায়ী পাইকারি বিদ্যুৎ বিক্রি করলে ৯ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা লোকসান হবে। যে কারণে বিদ্যুতের পাইকারি দর ৫ দশমিক ৮৮ টাকা (বর্তমান দর ৪.৮৪ টাকা) করা প্রয়োজন।

প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে পাইকারি বিদ্যুতের দর ২০১৭ সালের নভেম্বর ৮ পয়সা কমিয়ে ৪.৮৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তখন গড় ব্যয় ছিলো ৫ টাকা ৪৪ পয়সার মতো। বিইআরসি ৬০ পয়সা হারে ভর্তুকি দেয়ার আদেশ প্রদান করেছিল।

বিপিডিবি তার প্রস্তাবে আরো উল্লেখ করেছে, বিতরণ কোম্পানিগুলোর গড় রেট বিবেচনা করে দেখা গেছে ডিপিডিসি ইউনিট প্রতি ৭.৬৭ টাকা, ডেসকো ৭.৮০ টাকা, বিপিডিবি ৬.৯৪ টাকা, ওজোপাডিকো ৬.৮৯ টাকা, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ৬.৩৪ টাকা ও নেসকো ৬.৬০ টাকা হারে দর আদায় করছে। এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) বিতরণ অঞ্চলে (সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ) খুচরা বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির জন্য সরাসরি কোনো আবেদন করেনি।গণশুনানিতে তোপের মুখে বিতরণ কোম্পানিগুলো স্বীকার করেছিলেন পাইকারি দাম না বাড়লে খুচরা দাম বাড়ানোর প্রয়োজন নেই।